
গত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি পৃথক তিনটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় জিরা, ফুচকা, কাবেরী মেহেদি এবং ৪৩ কেজি গাঁজা ও ১০ লিটার ভারতীয় বাংলা মদসহ এক আসামিকে আটক করেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ৫৫ বিজিবি হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান।
বিজিবি সূত্র জানায়, এর আগে দুপুর ১২টায় জেলার মাধবপুর উপজেলার সাতছড়ি বিওপির টহলদল সীমান্ত থেকে আনুমানিক এক কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাতছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় টহল পরিচালনা করে। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৩ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
বিকেল ৩টায় অপর অভিযানে বাল্লা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত থেকে দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসামপাড়া বাজার এলাকায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে তল্লাশি করে তার ব্যাগে থাকা ১০ লিটার ভারতীয় বাংলা মদসহ স্থানীয়দের সহায়তায় মো. এনাম খান (২১) নামে এক আসামিকে আটক করা হয়।
তিনি জেলার চুনারুঘাট উপজেলার জারুলিয়া গ্রামের মো. নিম্বর আলীর ছেলে। মদসহ আটক আসামিকে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়েরের মাধ্যমে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিকেল ৪টায় আরেকটি বিশেষ অভিযানে ট্রাকে ভারতীয় অবৈধ মালামাল পরিবহন করা হতে পারে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের একটি দল সীমান্ত থেকে প্রায় চার কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চন্ডিছড়া মাজারসংলগ্ন চা-বাগান এলাকায় পুরাতন ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে কৌশলগত অবস্থান নেয়।
চোরাকারবারিরা বিজিবির চেকপোস্ট ও উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে আত্মগোপন করে। তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবির আভিযানিক দল ট্রাকটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে।
ট্রাকটি তল্লাশি করে এর ভেতরে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকানো বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা, ফুচকা এবং কাবেরী মেহেদি পাওয়া যায়। অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা এসব মালামাল জব্দ করা হয়।
অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান জানান, সীমান্তে বিজিবি সদা সতর্ক ও সদা প্রস্তুত। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ লড়াই থামবে না। মাদক ও চোরাচালানকারী চক্রকে শনাক্ত এবং আটক করতে বিজিবির গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি চোরাচালান প্রতিরোধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।