
নেত্রকোণা-১ আসনের সাংসদ ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের একান্ত প্রচেষ্টায় দুর্গাপুর উপজেলার নেতাই নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙনের শঙ্কায় থাকা জনপদে আপদকালীন জিও ব্যাগ ফেলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করা হয়েছে গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের বন্দউষান বাজার এলাকার অসংখ্য বাড়িঘর, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০০ মিটার বাঁধ নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রতিরক্ষা কাজ এখনো চলমান রয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের বন্দউষান বাজার সংলগ্ন নেতাই নদীর তীরবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনের ঝুঁকি ছিল। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র স্রোতে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এতে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ ও প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করা হয়। জরুরি ভিত্তিতে নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জিও ব্যাগ ফেলা হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য অংশে জিও ব্যাগ ফেলা ও বাঁধ সুরক্ষার কাজ চলমান রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সময়মতো জিও ব্যাগ ফেলার কারণে নদীর ভাঙন থেকে অসংখ্য বাড়িঘর ও ফসলি জমি রক্ষা পেয়েছে। একই সঙ্গে বন্দউষান এলাকার একটি মসজিদ, কওমি মাদ্রাসা, বন্দউষান ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব স্থাপনা ও বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ত। জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়ায় সেই আশঙ্কা আপাতত অনেকটাই কেটে গেছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের একান্ত প্রচেষ্টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে এ জরুরি বাঁধ নির্মাণ ও প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাঁর উদ্যোগে দ্রুত কাজ শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
বন্দউষান বাজারের একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘নদীভাঙন নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার কারণে এবার বাড়িঘর, জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা পেয়েছে। এ উদ্যোগে আমরা খুবই খুশি।’
তবে স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে নেতাই নদীর ভাঙন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে শুধু আপদকালীন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়, ঝুঁকিপূর্ণ পুরো এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। চলমান কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পরিকল্পনা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
নেত্রকোণা জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ওসমান ফারুক জানান, ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেতে জরুরি সেবার অংশ হিসেবে আপদকালীন বন্দউষান বাজারে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। সেটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মনিটরিং করা হচ্ছে।