
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একই দিনে পৃথক দুটি অভিযানে হাসপাতালের দালালচক্র ও অনুমোদনহীনভাবে মৎস্য-পশুখাদ্য বিক্রির অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিন নারীকে আটক করে দুজনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও একজনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মৎস্য ও পশুখাদ্য বিক্রির অনিয়মের দায়ে পাঁচ ব্যবসায়ীকে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আঠারবাড়ি রায়বাজারে পৃথক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সকালে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের হয়রানি ও বিভ্রান্ত করার অভিযোগে দালালচক্রের তিন নারী সদস্যকে আটক করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসাইন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—জয়পুর গ্রামের মো. রহমত উল্লাহর স্ত্রী মোছা. শিরিন (৩৫) এবং দক্ষিণ বড়ভাগ গ্রামের মৃত মিলনের স্ত্রী মোছা. কমলা (৩৫)। তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর নারী হাটুলিয়া গ্রামের মো. মাসুদ মিয়ার স্ত্রী মোছা. রেখা বেগমকে (২৮) ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে উপজেলার টপ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও স্বপ্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করা হয়। স্বপ্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাবরেটরির তাপমাত্রা নির্ধারিত মান অনুযায়ী না থাকায় ল্যাবটি বন্ধ করে তালা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভবিষ্যতে দালাল না পাঠানোর বিষয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার আঠারবাড়ি রায়বাজারে অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন ও আইনবহির্ভূতভাবে মৎস্য ও পশুখাদ্য বিক্রির অভিযোগে পাঁচ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০-এর ২০ ধারায় অপরাধের দায়ে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পরে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা হলেন—দুলাল এন্টারপ্রাইজের আবুল হোসেন (৬০), বিসমিল্লাহ স্টোরের খাইরুল ইসলাম (২৫), হাওয়া স্টোরের জাহাঙ্গীর (৪৫), বিসমিল্লাহ স্টোরের মাইজুল (৪০) এবং মুন্সি এন্টারপ্রাইজের কামরুল হাসান (৩৬)।
আঠারবাড়ি বাজারের অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান। এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিজভী আহাম্মেদ ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
অন্যদিকে, হাসপাতালকেন্দ্রিক অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসাইন, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশ সদস্যরা।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতালে দালালির মাধ্যমে রোগী হয়রানি কিংবা বিভ্রান্ত করার সুযোগ নেই। দালালচক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। রোগীর স্বার্থে হাসপাতাল দালালমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্র, অনিয়ম এবং মৎস্য ও পশুখাদ্য বিক্রিতে আইন ও বিধিবিধান না মানার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।