
সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক সলংগা হাটে লাল আটার স্বাদের রুটি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন দরিদ্র মিন্টু মোল্লা (৩৮)। এ উপার্জনে তার ৩ ছেলে-মেয়ে স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করছে। আর বাবার রুটির টুংগি দোকানের ৩ কর্মচারীর পাশাপাশি সহযোগিতা করছে কলেজছাত্র জিয়া মোল্লা (১৮)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ধান কেনাবেচার অন্যতম এই অঞ্চলের সলংগা হাটের পশ্চিম ও দক্ষিণপাড়ে সারি সারি ১৬/১৭টি টুংগি ঘর স্থাপন করা হয়েছে। এসব টুংগি ঘরের দোকানে স্থানীয় দরিদ্র পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে লাল আটার রুটি বিক্রি করছেন।
এ রুটির সঙ্গে ফ্রি দেওয়া হচ্ছে শুকনা মরিচের ভর্তা, আলু ভর্তা, মসুর ডাল ও বেগুন ভর্তা। তবে ২০ টাকায় ডিম ভাজিও দেওয়া হয়। এসব লাল আটার রুটি বিক্রির দোকানে হাটের দিন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। এছাড়া প্রতিদিন স্থানীয় লোকজনও এ লাল আটার স্বাদের রুটি খান। ফলে এসব দোকান এলাকায় লাল আটার স্বাদের রুটির ঘর হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়রা বলছেন, ইতোমধ্যেই এ রুটি বিক্রি করে অনেকের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে এবং তাদের অনেকের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়াও করছে। এ স্বাদের লাল আটার রুটি বিক্রি করে তারা সুনামও অর্জন করেছেন।
প্রায় ৫ বছর ধরে সলংগা হাটের দক্ষিণ পাশে সলংগা ভরমোহনি গ্রামের দরিদ্র মিন্টু মোল্লা লাল আটার রুটি বিক্রি করছেন। এ লাল আটার রুটি বিক্রি করে তিনি সংসার চালাচ্ছেন।
এ প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তার ছেলে স্থানীয় কলেজছাত্র জিয়া মোল্লা জানায়, বাবার রুটির দোকানে ৩ জন কর্মচারী গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। এজন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি দোকানে সহযোগিতা করে থাকি প্রায় প্রতিদিন। আর দুই ভাই স্কুলে পড়াশোনা করছে। বাবার এ উপার্জনে সংসার চালানোর পাশাপাশি আমরা লেখাপড়া করছি।
এ স্বাদের লাল রুটির চাহিদা বেশি এবং সব শ্রেণির মানুষই এ রুটি খেয়ে থাকেন। প্রতি পিস রুটি ১৫ টাকা করে বিক্রি করা হয়। বিশেষ করে ফ্রিতে মরিচ ভর্তা ও আলু ভর্তার চাহিদা বেশি এবং প্রতিজন গ্রাহক ৪ থেকে ৫টি করে রুটি খেয়ে থাকেন।
প্রতিদিন এ লাল রুটি প্রায় ৭/৮ হাজার টাকা বিক্রি হয়ে থাকে। তবে হাটের দিনই এ স্বাদের রুটি বেশি বিক্রি হয়। কর্মচারীসহ প্রতিদিনের খরচ বাদে লাভ থাকে ১৫শ থেকে ১৬শ টাকা।
এদিকে, এ লাল আটার রুটির চাহিদা নিয়ে এলাকায় কথা উঠেছে—‘চলো যাই সলংগার হাটে, খেয়ে আসি স্বাদের লাল রুটি।’