
সিরাজগঞ্জে জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড পুনরায় চালুর উদ্যোগে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে উৎসাহ-আমেজের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত এ মিল প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। এতে বেকার হয়ে পড়েন শ্রমিক-কর্মচারীরা। বর্তমান সরকারের এ পদক্ষেপে সিরাজগঞ্জবাসীর মধ্যে আলোচনা উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ৩টি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এ চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড ইজারা পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। এছাড়া খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস ইজারা পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।
সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেডে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ মিল পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে ৫ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার হতে পারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
এ মিল পুনরায় উৎপাদনে ফেরার প্রক্রিয়ায় এ জেলায় ব্যবসা-বাণিজ্যিক অঙ্গনে নতুন গতি ফিরবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশিষ্টজনেরা অভিমত ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় শ্রমিক নেতা আব্দুর রহিমসহ অনেকেই বলছেন, জাতীয় জুট মিল চালু হবে—এ সংবাদে আমরা আনন্দিত। এ মিল দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীরা বেকার হয়ে পড়েছে। এ জুট মিল চালুর উদ্যোগে মিলপাড়ায় আমেজের সৃষ্টি হয়েছে।
এ মিলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা না দিয়েই বিদায় দেওয়া হয়েছিল। সরকারের এ উদ্যোগে পুনরায় মিল চালু হলে এ অঞ্চলের বেকারত্ব দূর হবে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, জাতীয় জুট মিলস দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বর্তমান সরকার পুনরায় এ মিল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ মিল চালু হলে পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন সহায়ক খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এতে সিরাজগঞ্জের অর্থনীতি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
তিনি সরকারের এ উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।