
পাবনার ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেনে শানটিং ইঞ্জিনের ধাক্কায় অন্তত ১৫ যাত্রী আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের ধাওয়ায় শানটিং ইঞ্জিনের লোকোমাস্টার ঘটনাস্থল থেকে সরে যান বলে জানা গেছে।
ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. আসলাম হোসেন জানান, খুলনা থেকে রাজশাহীগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় একটি শানটিং ইঞ্জিন পেছন দিক থেকে এসে মহানন্দা এক্সপ্রেসকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রেনটির ১৫ জন যাত্রী আহত হন।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানার ওসি মো. জিয়াউর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরে মহানন্দা এক্সপ্রেস রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর যাত্রীরা শানটিং ইঞ্জিনের চালককে ধাওয়া করলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরে আবার ফিরে আসেন।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই স্টেশনে ছুটে যান পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের এমপি অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। তিনি আহত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এ সময় এমপি বলেন, ‘রেলযাত্রীদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। কীভাবে শানটিং ইঞ্জিনটি মহানন্দা এক্সপ্রেসের পেছনে গিয়ে ধাক্কা দিল, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে। দায়িত্বে কারও অবহেলা থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আহত যাত্রীদের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।’
পরে এমপি স্টেশনে কর্মরত রেল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রেলওয়ে পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।