
বরগুনার বামনা উপজেলার সোনাখালী গ্রামে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নবজাতক কন্যাশিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বরিশালের শিশু বিকাশ কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। সেখানে শিশুটিকে সরকারি তত্ত্বাবধানে লালন-পালন করে বড় করার দায়িত্ব নিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সোনাখালী গ্রামের ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সামনে ফজলুর দোকানের পেছনে নারিকেলগাছের পাশ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসক শিশুটির নাড়ি কেটে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
উদ্ধারের পর তারিফ হাওলাদার ও তার পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে কয়েক দিন নিজেদের সন্তানের মতো আগলে রাখেন। বিশেষ করে মাসুমা বেগম শিশুটির প্রতি গভীর মায়ায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করেন।
পরে প্রশাসনের উদ্যোগে শিশুটিকে সরকারি তত্ত্বাবধানে নেওয়ার সময় আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শিশুটিকে ছাড়তে না চেয়ে মাসুমা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর দাবি ছিল, তিনি শিশুটিকে নিজের সন্তানের মতোই লালন-পালন করেছেন।
এ বিষয়ে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো, মারুফ হোসেন খান জানান, সরকারি আইন অনুযায়ী শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। সে কারণে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিশুটিকে বরিশালের আগৈলঝাড়া শিশু বিকাশ কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানেই প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও লালন-পালনের মাধ্যমে তাকে বড় করে তোলা হবে।
এদিকে, পরিত্যক্ত শিশুটির প্রকৃত বাবা-মা বা পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি। শিশুটির অধিকার ও সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।