
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সরকারি কোয়ার্টারের ভেতরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনের সামনে গড়ে উঠেছে তিন চাকার সিএনজি স্ট্যান্ড। একইভাবে পুঠিয়া পরেশ নারায়ণ (পি.এন.) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গেট ও মাঠেও সিএনজি রাখা হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, পুঠিয়া উপজেলা সদরের পৌর এলাকায় উপজেলা পরিষদের সরকারি কোয়ার্টারের ভেতরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের সামনে এবং পুঠিয়া পরেশ নারায়ণ (পি.এন.) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গেট ও মাঠে দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি স্ট্যান্ডের মতো করে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সেখান থেকে দিন-রাত সব সময় পুঠিয়া-আড়ানী-বাঘা রুটে এসব সিএনজি চলাচল করছে।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একটি তিন চাকার সিএনজির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস ও রুট পারমিট থাকতে হয়। এসব কাগজপত্র থাকলে সংশ্লিষ্ট জেলার মহাসড়ক ছাড়া অন্যান্য সড়কে চলাচল করতে পারে।
স্ট্যান্ডে থাকা সিএনজি চালকদের কাছে সেখানে স্ট্যান্ড করার অনুমতি ও বরাদ্দ এবং গাড়ির রুট পারমিট বা অন্যান্য কাগজপত্র আছে কি না জানতে চাইলে তারা জানান, স্ট্যান্ড করার জন্য কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তাদের কাছে রুট পারমিট বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও নেই। সেখানে কোনো মাস্টার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি আছেন কি না জানতে চাইলে এক চালক বলেন, ‘নাই। আমরা সিএনজি চালকরাই সব।’
পুঠিয়া পরেশ নারায়ণ (পি.এন.) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শামীম উদ্দিন জানান, স্কুল মাঠ বা স্কুল গেটে সিএনজি স্ট্যান্ডের জন্য কোনো অনুমতি বা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তারা ইতোমধ্যে একটি গেট নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু সেই গেট ভেঙে ফেলে জোর করে সিএনজি ভেতরে কিংবা গেটে রাখা হচ্ছে।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আবু মোতাল্লেম জানান, অফিস বা ভবন না থাকায় প্রায় আড়াই বছর ধরে উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসায় অফিস হিসেবে ব্যবহার করছেন তারা। অফিসের সামনে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে। পরিষ্কার করার জন্য লোক ডাকা হয়েছে। তারা এসে পরিষ্কার করে দিয়ে যাবে। দীর্ঘদিন ধরে অফিসের সামনে সিএনজি রাখা হলেও এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না বলে জানান।
পুঠিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস ইসলাম জানান, সেখানে পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনো সিএনজি স্ট্যান্ড লিজ বা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, ‘পূর্বে থেকেই সেখানে সিএনজি স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। আমারও প্রশ্ন সেখানে স্ট্যান্ড। নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আমিও চিন্তিত।’