ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার এবং অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

বৃহস্পতিবার রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে বিভাগীয় উন্নয়ন কমিটির সমন্বয় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, এনডিসি।

সভায় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মু. মাহবুবুর রশীদ, বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সরকারি দপ্তরগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার, জনসেবা নিশ্চিতকরণ, সরকারি সম্পদ সুরক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনানুগ কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময় ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি স্থাপনা ও জমি দখল, চুরি, ভাঙচুর এবং সরকারি সম্পদ ক্ষতিসাধনসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সঙ্গে মহাসড়ক ও সড়কের জায়গা অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি, সড়ক অবরোধ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা বলা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মাণসামগ্রী চুরি, ভাঙচুর এবং অপরাধ প্রতিরোধেও সমন্বয় জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে নদী, বাঁধ, বেড়িবাঁধ ও পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা, অবৈধ বালু উত্তোলন ও সরকারি সম্পদ দখলসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সঙ্গে বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় নাশকতা, বিদ্যুৎ চুরি, অবৈধ সংযোগ এবং ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি প্রতিরোধেও সমন্বয় জোরদারের কথা জানানো হয়।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিরাপদ পানি সরবরাহের অবকাঠামো, গভীর নলকূপ ও সরকারি পানির স্থাপনা চুরি, ভাঙচুর ও অবৈধ দখল থেকে সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে মামলা-সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি), চিকিৎসা প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় আলামত যথাসময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ, সরকারি সম্পদ ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পুলিশি সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কার্যালয় ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের নিরাপত্তা, সরকারি ওষুধ ও সরঞ্জামের অপব্যবহার এবং সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ বা চুরি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঙ্গে কৃষকদের হয়রানি, প্রতারণা, ভেজাল কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও সরকারি কৃষি সহায়তা আত্মসাৎ প্রতিরোধে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সঙ্গে সরকারি সার ও বীজের অবৈধ মজুত, পাচার, কালোবাজারি ও বিতরণে অনিয়ম প্রতিরোধে সমন্বিত নজরদারি জোরদারের কথা বলা হয়।

এ ছাড়া কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সঙ্গে সারসহ কৃষিপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুত, কারসাজি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে সরকারি ওষুধ চুরি, অবৈধ বিক্রি, নকল ওষুধ এবং ওষুধের অপব্যবহার প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের কথা জানানো হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সঙ্গে গবাদিপশু চুরি, পশুসম্পদ পাচার, অবৈধ জবাই ও প্রাণিসম্পদসংক্রান্ত প্রতারণা প্রতিরোধে সমন্বয়ের বিষয়টি আলোচনায় আসে। মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে অবৈধ মাছ আহরণ, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার ও জলাশয়ে অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বয় জোরদারের কথা বলা হয়।

খাদ্য বিভাগের সঙ্গে সরকারি খাদ্যশস্য চুরি, অবৈধ মজুত, পাচার, ওজনে কারচুপি ও খাদ্য বিতরণে অনিয়ম প্রতিরোধ এবং খাদ্যগুদাম ও সরকারি খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা আত্মসাৎ, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অসহায় ব্যক্তিদের হয়রানি প্রতিরোধে সমন্বয়ের কথা বলা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে ভেজাল পণ্য, প্রতারণা, অবৈধ মজুত, অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও ভোক্তা অধিকারবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে অবৈধ ইটভাটা, বায়ু ও শব্দদূষণ, নদী-জলাশয় দূষণ এবং পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সমন্বয় জোরদারের কথা বলা হয়। সামাজিক বন বিভাগের সঙ্গে সরকারি বনভূমি দখল, অবৈধ গাছ কাটা, কাঠ পাচার ও বনজ সম্পদ চুরি প্রতিরোধে সমন্বিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সমন্বিত কার্যক্রমের বিষয়ে ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, “জনসাধারণের নিরাপত্তা, সরকারি সম্পদ সংরক্ষণ এবং অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তরের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক সমন্বয়, দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং নিজ নিজ আইনগত এখতিয়ারের মধ্যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি রংপুর রেঞ্জের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটগুলোকে সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা, অপরাধসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় পুলিশি সহায়তা প্রদান এবং আইনানুগ কার্যক্রমে সমন্বয় অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেন।

সমন্বয় সভা,উন্নয়ন কমিটি,রংপুর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত