
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রায়হান কবির বলেছেন, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা ছাদে জমে থাকা পানিতেই এডিস মশার জন্ম হয়। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজের বাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার করতে হবে। ডেঙ্গুমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকার বা প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ সবচেয়ে জরুরি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি বাড়ি, প্রতিটি আঙিনা পরিষ্কার রাখা।
দেশব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন অভিযান-২০২৬’ উপলক্ষে জনসচেতনতা বাড়াতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও খাল পরিষ্কার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সদর উপজেলার লিংক রোডসংলগ্ন দক্ষিণ সস্তাপুর ইসলামী ফাউন্ডেশন ও ফতুল্লা স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়।
একই সময়ে শহরের বাগডোমারী খাল, উপজেলা পরিষদের প্রতিটি দপ্তর, সাতটি ইউনিয়ন পরিষদ এবং বিভিন্ন হাট-বাজারে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
ডিসি মো. রায়হান কবির আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা জোরদারে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি চলমান থাকবে। আগের তুলনায় বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক। তাই মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাই ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
অভিযানে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজ উদ্দিন, জেলা ও সদর উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্কাউট, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রোভার, লজিক অব বাংলাদেশ-এর স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সড়ক, ড্রেন ও জলাশয় পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, নাগরিক সচেতনতাই সবচেয়ে জরুরি। বাড়ির আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে। জলাবদ্ধতা দূর করতে ড্রেন ও খাল নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলে মশাবাহিত রোগ ও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে নারায়ণগঞ্জকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
অভিযানের পাশাপাশি ফতুল্লা স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এলাকার পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সবুজায়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের রাত্রিকালীন যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে সোলার লাইট স্থাপন করা হয়।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের নির্দেশনায় প্রতি শনিবার এ কর্মসূচি পালন করা হয়।