
খুলনার কয়রায় অর্থাভাবে চিকিৎসাহীনতায় প্রহর গুনতে থাকা বামিয়া শ্রীফলতলার হারুন সানার স্ত্রী দুলিপা পারভীন ও শিশু সন্তান হোসাইনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের নজরে আসে। তিনি খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী কে নির্দেশনা দেন চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত জেডআরএফের প্রোগ্রাম পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহর সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে বলেন।
খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে শনিবার রাতে আমাকে ফোনে জানানো হয়। তাৎক্ষণিক আমি প্রতিনিধি পাঠিয়ে তাদের তথ্য সংগ্রহ করি, সকাল হতেই মা ও শিশুকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জায়গীর মহল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জেডআরএফের সদস্য ডা. এম আর হাসান ও কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ডা: রেজাউল করিম রাজিব তত্বাবধনে চিকিৎসা কার্যক্রাম ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে শুরু হয়। মা ও শিশুটির দ্রুত আরোগ্যের জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা আমাদের পক্ষ থেকে অব্যাহত থাকবে।
হারুন সানা জানান, তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার বামিয়া শ্রীফলতলায়। অভাব-অনটনের সংসারে চরম আর্থিক সংকটে পড়ায় স্ত্রী দুলিপা পারভীন ও শিশু সন্তান হোসাইনের চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে পারি নাই। তাই চরম পুষ্টিহীনতায় দিনদিন পার করছে। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাদের পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আজ তাদের সহযোগিতায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ডা: রেজাউল করিম রাজিব জানান, মহিলা রোগী কিছুটা পুষ্টিহীনতায় দুর্বল আর যৌনাঙ্গের বাইরে একটা ফোঁড়া হয়েছিল। ফোঁড়াটা এখন শুকিয়ে গেছে আর উনার শারীরিক পুষ্টির জন্য মাল্টিভিটামিন স্যালাইন সহ অন্যান্য ঔষধ দিয়েছি যার সবকিছুই আমাদের আছে। আর বাচ্চার ১২ দিন আগে চিকেন পক্স হয়ে গায়ে মুখে এমন সাদা স্পট হয়ে গেছে যেটা একটা সময় পর ঠিক হয়ে যাবে। তার জন্য হাসপাতাল থেকেই ঋ-৭৫ নামক বিশেষ পুষ্টির দুধ দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মা ও শিশু দুজনেই স্বাভাবিক আছে।
জেডআরএফ সদস্য ডা. এম আর হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নজরে আসার পরই ডা. জুবাইদা রহমান মা ও শিশুটির চিকিৎসায় সহযোগিতার উদ্যোগ নেন। সেই অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জান্নাতুলের চিকিৎসার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়েছে।
অসহায় পরিবারের আকুতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জান্নাতুলের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় পরিবারের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন চিকিৎসার মাধ্যমে দুলিপা পারভীন ও শিশু সন্তান হোসাইনের দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে—এটাই তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা।