ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পলির ছাদবাগানে ৩০০ প্রজাতির গাছ, নজর কাড়ছে এলাকাবাসীর

পলির ছাদবাগানে ৩০০ প্রজাতির গাছ, নজর কাড়ছে এলাকাবাসীর

দিনাজপুরের হাকিমপুরের নারী উদ্যোক্তা আরমিন আক্তার পলির ছাদবাগান এখন এলাকাবাসীর নজর কেড়েছে। প্রায় ৩০০ প্রজাতির ফল, ফুল, সবজি ও ঔষধি গাছ রয়েছে তার এই বাগানে। পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনদের চাহিদাও পূরণ করছেন তিনি।

উৎপাদিত বিভিন্ন ফল, ফুল ও সবজি বাজারজাত করে আয়ও করছেন। তার সফল ছাদবাগান দেখে উৎসাহী হয়ে উঠছেন অনেকেই।

প্রায় সাত বছর আগে কয়েকটি ফুল ও ফলের গাছ লাগিয়ে ছাদবাগান শুরু করেন পলি। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে মাল্টা, কমলা, লিচু, মিষ্টি আমড়া, তেঁতুল, ডালিম, পেয়ারা, ড্রাগন, কামরাঙা, পেঁপে, জলপাই, কাঠবাদাম, আঙুর ও জাম্বুরাসহ বিভিন্ন ফলের গাছ। পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, পাতাবাহার ও সবজি। পুঁইশাক, কলমিশাক, শিম, টমেটো ও বেগুনসহ তিন শতাধিক গাছ রয়েছে বাগানটিতে।

ছাদবাগানের সব গাছই টবে লাগানো। এর মধ্যে বিশেষত্ব হলো, এসব টবও নিজের হাতে তৈরি করেন পলি। তার, সিমেন্ট, বালু ও ইটের গুঁড়া দিয়ে তৈরি এসব টব নিজের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বিক্রিও করেন তিনি। এতে আলাদা মুনাফা হচ্ছে তার। নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতেই তার এই উদ্যোগ।

পলির ছাদবাগান দেখতে প্রতিনিয়ত ছুটে আসছেন অন্যান্য নারী উদ্যোক্তাসহ স্থানীয়রা। বাগান দেখে অনেকেই নিজেদের বাড়ির ছাদে বাগান তৈরিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

হাকিমপুর নারী উদ্যোক্তার সাধারণ সম্পাদক রোমেনা আক্তার মনি বলেন, ‘আমরা নারীরা পিছিয়ে নেই, আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রতিটি উদ্যোক্তা কোনো না কোনো কাজ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, কেউ বসে নেই। আজ আমরা একজন সফল নারী উদ্যোক্তা পলি আপার ছাদবাগান দেখতে আসছি। আলহামদুলিল্লাহ, অনেক সুন্দর তার এই ছাদবাগানটি। এই বাগান থেকে সংসারের চাহিদা পূরণ করেও বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছেন তিনি। হাকিমপুর নারী উদ্যোক্তার সব সদস্য বিভিন্ন কর্মের মধ্যে রয়েছেন। আমরা সবাই পারব ইনশাআল্লাহ সামনে এগিয়ে যেতে।’

নারী উদ্যোক্তা হামিদা আক্তার বলেন, ‘আমি হাকিমপুর নারী উদ্যোক্তার একজন সদস্য। আজ আমরা এসেছি আমাদের একজন সদস্যের ছাদবাগান দেখতে। তার বাগান ঘুরে দেখলাম, বিভিন্ন জাতের অনেক গাছ আছে। বাগান দেখে মন ভরে গেল। আমিও আশা করছি বাড়ির ছাদে এমন একটি বাগান তৈরি করব।’

স্থানীয় ফরিদা বেগম বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী পলি আপা তার নিজ বাড়ির ছাদে বাগান তৈরি করেছেন। বিভিন্ন জাতের গাছ রয়েছে বাগানে, দেখে মন ছুঁয়ে যায়। আমি মাঝেমধ্যে তার ছাদবাগানে উঠি, সময় ভালো কাটে। আমিও পলি আপার মতো ছাদবাগান তৈরি করতে শুরু করেছি।’

ছাদবাগানের মালিক আরমিন আক্তার পলি বলেন, ‘আমি ছোট থেকেই বাড়িতে ফুল ও ফলের গাছ লাগাতে পছন্দ করি। ছোটবেলা থেকে গাছ কীভাবে লাগাতে হয় এবং কীভাবে তার পরিচর্যা করতে হয়, সেসব আমার বাবার কাছ থেকে শিখেছি। প্রায় সাত বছর আগে কয়েকটি গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে এই ছাদবাগান শুরু করি। বর্তমানে আমি হাকিমপুর নারী উদ্যোক্তার একজন সদস্য। ফল, ফুল ও সবজি চাষের পাশাপাশি নিজ হাতে সিমেন্ট-বালু দিয়ে টব তৈরি করছি। আলহামদুলিল্লাহ, বাড়ি থেকে এসব ভালো বিক্রি হচ্ছে।’

এলাকাবাসী,৩০০ প্রজাতির গাছ,পলির ছাদবাগান
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত