ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সিরাজগঞ্জে আখের বাম্পার ফলন, শীতের শুরুতেই গুড় তৈরি

সিরাজগঞ্জে আখের বাম্পার ফলন, শীতের শুরুতেই গুড় তৈরি

সিরাজগঞ্জে এবার বিভিন্ন জাতের আখ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। শীত শুরু হতে না হতেই জেলার বিভিন্ন স্থানে আখ মাড়াই করে গুড় তৈরি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে নতুন গুড় হাট-বাজারে উঠেছে। দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এসব জমিতে আইএসডি ৪১, ৪২, ৪৩, ইরি ও বোনসহ বিভিন্ন জাতের আখ চাষ করা হয়েছে।

কয়েক মাস আগে কৃষকেরা বিভিন্ন জাতের আখ সংগ্রহ করে তিন চোখের ডাঁট বা টুকরা জমিতে রোপণ করেন। বিশেষ করে উঁচু ও দোআঁশ জমিতে এ আখের চাষ বেশি হয়। এ ছাড়া তিন-চার বছর মেয়াদি আখের মোতা থেকেও নতুন আখ উৎপাদন করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ একবার আখ চাষ করলে দীর্ঘমেয়াদি মোতা থেকে পুনরায় আখ গজায়। এতে কম খরচে আখ উৎপাদন করে বেশি লাভবান হন কৃষকেরা।

চরাঞ্চলসহ জেলার বেলকুচি, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আখের চাষ বেশি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে আখ মাড়াই করে গুড় তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নতুন গুড় বাজারেও উঠেছে।

তবে আখের গুড় তৈরিতে ভেজাল মেশানোর অভিযোগও রয়েছে। অসাধু কিছু কৃষক আটা, চিনি ও সোডা মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আটা ও চিনি মিশিয়ে গুড় তৈরি করাকে তারা ভেজাল বলে মনে করেন না।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, শীত মৌসুমে আখ মাড়াই করে নতুন গুড় তৈরি করা হয়। এবার শীতের শুরুতেই প্রতি ডিমা (৩ পোয়া) গুড় গড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খাঁটি গুড় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। অনেক কৃষক প্রতি বিঘা জমির আখ ক্ষেতসহ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় প্রতিবছরই এ লাভজনক চাষাবাদ বাড়ছে।

শহর-বন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে করেও আখ বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে মেশিনে আখ মাড়াই করে তৈরি করা রসের চাহিদাও রয়েছে। বর্তমানে প্রতি গ্লাস আখের রস ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যমুনা নদীর তীরবর্তী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পারপাঁচিল গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ও আনোয়ার হোসেন বলেন, এবার তারা ৭ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন। এর বেশিরভাগই আখের মোতা থেকে উৎপাদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আখ মাড়াই করে নতুন গুড় তৈরি শুরু করেছেন তারা। দাম ভালো থাকায় এবার বেশি লাভের আশা করছেন।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক জেরিন আহম্মেদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এবার আখ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে এ চাষাবাদে লাভ বেশি হয়। স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে আখ চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে আখ মাড়াই শুরু হয়েছে এবং ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে পুরো শীত মৌসুমে আখ মাড়াই পুরোদমে শুরু হবে বলে জানান তিনি।

গুড় তৈরি,শীতের শুরু,বাম্পার ফলন,আখ,সিরাজগঞ্জ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত