ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বীরগঞ্জে গ্রীষ্মকালীন শিমের বাম্পার ফলন, লাভের আশায় কৃষক

বীরগঞ্জে গ্রীষ্মকালীন শিমের বাম্পার ফলন, লাভের আশায় কৃষক

গ্রীষ্মকালীন শিমের ভালো ফলন ও আশানুরূপ দাম পেয়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কৃষক মো. ছাব্বির হোসেনের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। তার ক্ষেতের এমন সাফল্য দেখে আশপাশের কৃষকদের মনেও জাগছে নতুন স্বপ্ন। ধান চাষে উৎপাদন খরচ বাড়লেও প্রত্যাশিত লাভ না পাওয়ার দুশ্চিন্তার মধ্যে গ্রীষ্মকালীন শিম যেন কৃষকদের সামনে খুলে দিচ্ছে বাড়তি আয়ের নতুন পথ। বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মাটিয়াকুড়া গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়ে শিমের সবুজ সমারোহ।

হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম ও ব্লক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ ও সহায়তায় কয়েকজন কৃষকের হাত ধরে শুরু হওয়া এ চাষ এখন ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় বিকল্প ফসল হিসেবে শিম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন আরও অনেক কৃষক।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে ধান উৎপাদনের খরচ বাড়লেও অনেক সময় সে তুলনায় বাজারদর পাওয়া যায় না। এতে লাভ কমে যাওয়ায় বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন তারা। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার কেউ কেউ গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ শুরু করেন। প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এ আবাদ নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন চাষিরা।

মোহনপুর ইউনিয়নের মাটিয়াকুড়া গ্রামের কৃষক মো. ছাব্বির হোসেন জুলাই মাসে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিমের বীজ রোপণ করেন। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে শিম আসতে শুরু করে। এরপর থেকে নিয়মিত শিম সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করছেন তিনি।

ছাব্বির হোসেন বলেন, এ মৌসুমে তার প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গাছে ভালো শিম ধরেছে। পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি শিম ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন তিনি। অক্টোবর মাস পর্যন্ত শিম পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন। খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হবে বলেও প্রত্যাশা তার।

বীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শিম চাষিরা জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় তারা এ জাতের শিম চাষ করেছেন। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। তাদের ক্ষেতের ফলন দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও শিম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

ছাব্বির হোসেন জানান, তিনি ২০ শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন শিমের চাষ করেছেন। পাইকাররা তার কাছ থেকে প্রতি কেজি শিম ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাজারে সেই শিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলন ভালো হওয়ায় ডিসেম্বর পর্যন্ত শিম বিক্রি চলবে বলে আশা করছেন তিনি। এতে ভালো আয় হবে বলে প্রত্যাশা তার।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, শীতকালে বিভিন্ন জাতের শিমের চাষ হলেও গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতটি ভালো ফলন দিতে পারে। এ জাতের শিম গ্রীষ্ম ও বর্ষার আবহাওয়া সহিষ্ণু।

কৃষকদের বীজ রোপণ, মাচা তৈরি, পরিচর্যা ও পোকামাকড় দমনের বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পোকামাকড় দমনে কৃষকরা ইয়েলো ট্র্যাপ ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি জমিতে বেশি পরিমাণে গোবর ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কম রাখার পাশাপাশি ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলতি মৌসুমে ২০ শতক জমিতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের গ্রীষ্মকালীন শিমের আবাদ করা হয়েছে। এ জন্য কৃষকদের বীজ, সার, ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় শিম চাষ দেখে উৎসাহিত হয়ে কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে আরও প্রায় ৫ একর জমিতে এ জাতের শিমের আবাদ করেছেন। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০ থেকে ১২ একরের বেশি জমিতে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ হয়েছে।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বীরগঞ্জে আগে গ্রীষ্মকালীন শিমের চাষ তেমন হতো না। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উদ্যোগে কয়েকজন কৃষককে দিয়ে এ চাষ শুরু হয়। এবার ফলন ভালো হয়েছে এবং কৃষকরা বাজারে ভালো দামও পাচ্ছেন। তাদের সাফল্য দেখে অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। ভবিষ্যতে এ আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

লাভের আশায় কৃষক,বাম্পার ফলন,গ্রীষ্মকালীন শিম,বীরগঞ্জ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত