ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাজবাড়ীতে পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, হত্যার হুমকি

রাজবাড়ীতে পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, হত্যার হুমকি

রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামপুর মৌজায় পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী রহিমা বেগম এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন ফরিদসহ অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী বিএম আমিনুল ইসলাম ওরফে আকাশ নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পৈত্রিক জমি ফিরে পেতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম ওরফে আকাশ জানান, রাজবাড়ী সদর থানার রামপুর মৌজার এসএ ৩২ নম্বর দাগের পূর্ব পাশের ৮০ শতাংশ জমি তার চাচা মো. আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের কাছ থেকে ক্রয় করেন মিজানুর রহমান। ১৯৮৭ সালের ২৮ অক্টোবর সম্পাদিত ৫২৫২ নম্বর দলিলমূলে জমিটি কিনে তারা ভোগদখল করে আসছেন।

অন্যদিকে, একই এসএ দাগের হাল বিএস ১৩৫ ও ১৩৬ নম্বর দাগের পশ্চিম পাশের ৮৪ শতাংশ জমি তার বাবা আব্দুল কাদের বিশ্বাসের পৈত্রিক সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার পরিবার ওই জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।

আকাশের অভিযোগ, সম্প্রতি মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী রহিমা বেগম ও ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন ফরিদ যোগসাজশ করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনকে নিয়ে তার পৈত্রিক জমি দখল করে চারপাশে বেড়া দেন। এতে বাধা দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

এ অবস্থায় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে তিনি খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরও বিভিন্ন সময়ে ইউপি সদস্য ফরিদ ও তার লোকজন তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেন আকাশ।

অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমান অসুস্থ থাকায় তার স্ত্রী রহিমা বেগমের সঙ্গে কথা বলা হয়। তিনি জানান, তার স্বামী আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের কাছ থেকে জমিটি কিনে দলিল করেছেন। দলিলে জমির অবস্থান পূর্ব পাশে উল্লেখ থাকলেও সেখানে ফসল না হওয়ায় হামিদ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলে পশ্চিম পাশের জমি তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে দলিলে জমির অবস্থান পরিবর্তন করা হয়নি।

আব্দুল কাদের বিশ্বাসের দলিলকৃত জমি আব্দুল হামিদ বিশ্বাস তাদের দখলে দিতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি রহিমা বেগম।

অন্যদিকে, ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন ফরিদ অভিযোগকে বানোয়াট দাবি করে বলেন, সামনে নির্বাচন থাকায় পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক হারুন অর রশিদ বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পাশাপাশি, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটির তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

হত্যার হুমকি,দখলের অভিযোগ,পৈত্রিক সম্পত্তি,রাজবাড়ী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত