
পাবনার ঈশ্বরদীতে জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ বিক্রির দায়ে এক খুচরা মাছ ব্যবসায়ীকে আবারও ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে জব্দ করা ৩০ কেজি ক্ষতিকর জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ ধ্বংস করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পৌর শহরের মাছ বাজারে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার।
আসাদুজ্জামান সরকার জানান, ইলিশ মৌসুমে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে কেউ ইলিশ মাছ বিক্রি করছেন কি না, তা দেখতে ঈশ্বরদী পৌর বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
তিনি বলেন, বাজারে ইলিশ মাছ পাওয়া না গেলেও আব্দুল আজিজ নামে এক মাছ বিক্রেতার কাছে থাকা চিংড়ি মাছ দেখে সন্দেহ হলে তা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় বড় আকারের ৩০ কেজি ক্ষতিকর জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ শনাক্ত করে জব্দ করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মি শিরিনসহ মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং থানা পুলিশের সদস্যরা।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের মাছ বাজারে চিংড়ি মাছের ভেতরে ক্ষতিকর জেলি ঢুকিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন এ অভিযান পরিচালনা করে। জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ৩০ কেজি ক্ষতিকর চিংড়ি মাছ জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, ধারাবাহিক অভিযানে জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ জব্দ ও ধ্বংস করা হলেও বাজারে ক্ষতিকর এই মাছের বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না। তাদের দাবি, প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারির অভাব এবং সীমিত পরিসরে নামমাত্র জরিমানা করার কারণে জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে ঈশ্বরদীতে জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ বিক্রির দায়ে এক মাছ ব্যবসায়ীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে বিক্রির জন্য রাখা ১০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।