
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজীকে হয়রানি বন্ধ, তার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির নোটিশ প্রত্যাহার এবং শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির পক্ষে প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে ভোলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের ভোলা জেলা শাখার উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন বোরহানউদ্দিন উপজেলা শিক্ষক নেতা মাস্টার মো. আব্দুল হাই, দৌলতখান উপজেলা শিক্ষক নেতা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নাজিউর রহমান, শিক্ষক নেতা মো. নজরুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মো. ওবায়দুল্লাহ, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম ভোলার সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন, মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম ভোলা সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুর রহমান, সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আইয়ুব আলী এবং মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম ভোলা জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমির হোসেন।
বক্তারা বলেন, আগামী ৪ নভেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আদেশ জারি, নবম পে-স্কেল অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান এবং আগামী ঈদুল ফিতর থেকে শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদানের দাবিতে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. সামিউল ইসলাম প্রামাণিকের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী একটি প্রতিবাদী পোস্ট দেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাত ১১টা ২২ মিনিটে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে নোটিশ প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, এর আগে ১৫ থেকে ২৮ অক্টোবর মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একজন পরিদর্শক তার প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।
ঘটনার সময়কাল, ধারাবাহিকতা ও অস্বাভাবিক দ্রুততার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজীকে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবির পক্ষে তার প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের হয়রানিমূলক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা অবিলম্বে তদন্ত কমিটির নোটিশ প্রত্যাহার, অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজীকে হয়রানি বন্ধ এবং ৪ নভেম্বরের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বানচালের যেকোনো অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানান।
পাশাপাশি আগামী ৪ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচিতে সব শিক্ষক-কর্মচারীকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়ে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।