
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছে সুরতন নেছা নামের এক নারীর একটি ভেড়া। কুকুরের কামড়ে ভেড়াটির পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গেলে সেটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নিয়ে আসেন মালিক। তবে সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় গেটের সামনেই ভেড়াটির প্রাথমিক চিকিৎসা দেন মাস্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্ত ঝাড়ুদার শাহাদত হোসেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটখাটামারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একদল কুকুর সুরতন নেছার ভেড়াটিকে আক্রমণ করে। কুকুরের কামড়ে ভেড়াটির পেটের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং নাড়িভুঁড়ি বাইরে বেরিয়ে আসে। পরে দ্রুত ভেড়াটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে শাহাদত হোসেন ভেড়াটির পেট পরিষ্কার করে ক্ষতস্থানে সেলাই দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
এ বিষয়ে শাহাদত হোসেন বলেন, সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় হাসপাতালে কেউ ছিলেন না। তাই তিনি ভেড়াটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন।
ভেড়ার মালিক সুরতন নেছা বলেন, ‘কুকুরের অত্যাচারে গরু-ছাগল কিছুই পালন করতে পারি না। সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়।’
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা কয়েকজন জানান, জরুরি সময়ে পশু চিকিৎসা পাওয়ার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে অন্তত একজন চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রাখা দরকার।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এসব কুকুরের আক্রমণ থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণীও রেহাই পাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশিকুজ্জামান বলেন, ‘ছুটির দিন হলেও আমাদের জানালে আমরা কেউ না কেউ সেখানে যেতাম।’
স্থানীয়দের দাবি, বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ছুটির দিনেও জরুরি পশু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একজন চিকিৎসকের উপস্থিতি প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন তারা।