অনলাইন সংস্করণ
১৯:৪৯, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিনই ইরানে নতুন করে হামলা শুরু হতে পারে বলে নিজেদের উপসাগরীয় আবর মিত্র দেশগুলোকে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৪ নভেম্বর এই হামলা শুরু হতে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি আরব সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএস নাউ-কে এ তথ্য জানিয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাবনা সামনে রেখে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৪ নভেম্বর থেকেই এই হামলা শুরু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য মার্কিন অভিযান স্বল্পস্থায়ী হলেও এর তীব্রতা অনেক বেশি হতে পারে। তবে নতুন করে হামলা শুরু হলে ইরানের পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে।
তারা বলেছেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনের ফলাফল আসতে কয়েকদিন সময় লাগলেও; পুরো ফল বের হয়ে যাওয়ার আগেই ইরানে হামলা হতে পারে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু উপসাগরীয় দেশ তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর বিরোধিতা করতে পারে। এমন অবস্থান নিলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইরানে আর কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে না। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এমএস নাউ-কে বলেন, ‘যেসব সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে, সেগুলো নিয়ে আমরা মন্তব্য করি না।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন।
এদিকে এক প্রতিবেদন হিব্রু সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজ জানিয়েছে, ইরানের ওপর হামলার জন্য প্রয়োজনীয় মোতায়েন ও প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ, উভয় ক্ষেত্রেই সতর্কতার মাত্রা এখন ‘অত্যন্ত উচ্চ’। এরই মধ্যে মার্কিন সামরিক বিমান ইসরায়েলে অবতরণ করেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য নীতিনির্ধারকেরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের (গ্রিন সিগন্যাল) অপেক্ষায় রয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযান শুরু হলে তা দীর্ঘায়িত হতে পারে। তবে এটি স্বল্পমেয়াদি অভিযানের প্রতি ট্রাম্পের কথিত পছন্দের বিপরীত। ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত শুরু হলে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় একটি রণাঙ্গনও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।