ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রংপুরের ক্রীড়া অবকাঠামো আধুনিকায়ন হবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

রংপুরের ক্রীড়া অবকাঠামো আধুনিকায়ন হবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

রংপুর জেলা স্টেডিয়ামসহ দেশের সব জেলা স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, ইনডোর স্টেডিয়াম ও জিমনেসিয়াম পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রংপুর জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে স্থানীয় ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায় সরকার। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলার স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন ও সংস্কারের জন্য সরকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর আওতায় রংপুর জেলা স্টেডিয়ামও রয়েছে। স্টেডিয়ামে সুইমিং পুল, ইনডোর ফ্যাসিলিটিসসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আটটি বিভাগে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে জেলা স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, ইনডোর স্টেডিয়াম ও জিমনেসিয়ামগুলোর সংস্কার এবং আধুনিকায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এ প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরি করে বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এসব কাজ বাস্তবায়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন। রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের ড্রেসিং রুম, প্রেস বক্স, গ্যালারিসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নও পর্যায়ক্রমে করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ও প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।

রংপুরে বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রংপুর খেলাধুলাপ্রিয় একটি নগরী। এখান থেকে অতীতে অনেক খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। তবে নতুন বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের আগে বিদ্যমান স্টেডিয়ামগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে। এরপর প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের বিষয়ে পরিকল্পনা করা হবে।

দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। এ জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে তিন থেকে আট বিঘা পর্যন্ত খাসজমি চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তিনি। এসব জমি সংস্কার করে খেলার উপযোগী মাঠ তৈরি করা হবে, যাতে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষ খেলাধুলার সুযোগ পায়।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে প্রধানমন্ত্রী একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রথম আসরে অংশ নেওয়া ৩১০ জন ক্রীড়াবিদের মধ্য থেকে ৪০ জনকে বাছাই করে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে তারা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রশিক্ষণ নেবে এবং উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ পাবে। পরবর্তী সময়ে তাদের পরিপূর্ণ পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রেজেকে সুলতানা ফেন্সি, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব সামছুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশন প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, সাংবাদিক ও স্থানীয় ক্রীড়াবিদরা।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী,আধুনিকায়ন,ক্রীড়া অবকাঠামো,রংপুর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত