
ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে রক্ষা ও এগিয়ে নিতে এবং সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্যবিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আন্দোলন পর্যন্ত এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ সবসময় রাজপথে ঐক্যবদ্ধ ছিল। অতীতে দেশের সম্পদ লুণ্ঠন ও বিদেশে পাচার করে দেশকে যে চরম অর্থনৈতিক সংকটে ফেলা হয়েছিল, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে ধৈর্য ও সততার সঙ্গে মূল শত্রুকে মোকাবিলা করে সামনে এগোতে হবে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করে হিলি যুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধে অনন্য ত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মন্ত্রী।
এ ছাড়া ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের কঠিন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের কৃষকদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক সুবিধা এবং তৈরি পোশাকশিল্পে ‘ব্যাক-টু-ব্যাক’ ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিমগাছ রোপণ, যা ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও সভায় তুলে ধরেন তিনি।
এ ছাড়া শহীদ জিয়াউর রহমানের সাধারণ জীবনযাপন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ভূমিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা আজ প্রশংসনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজশাহী এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সেরা মধ্যম সারির নগরী এবং একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর শহর হিসেবে গড়ে উঠেছে, যা নগরবাসীর সম্মিলিত অবদানের ফসল।
এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনেও এ ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে রাজশাহীকে আরও এগিয়ে নেবেন।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো. শামীম হোসেন, পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ এবং রাজশাহী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম খোকা।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে একই স্থানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।