অনলাইন সংস্করণ
১২:০৪, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের পুরাতন ভবনের ছাদে গাঁজা সেবনের সময় বিজয় একাত্তর হলের দুই শিক্ষার্থী ও দুই বহিরাগতসহ মোট চারজনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মোবাইল প্রক্টরিয়াল টিম।
শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে হলের দক্ষিণ ব্লকের ছাদে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান, অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩–২৪ সেশনের শিক্ষার্থী তানবীন আহমেদ ওরফে আহমেদ অনিম এবং দুই বহিরাগত সামিউল ও রাকিব। নোমান ও তানবীন বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তানবীন আহমেদ ছাত্রদল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি ক্যাম্পাসে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আল হাদী মায়েদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে, আব্দুল্লাহ আল নোমানও নিজেকে ছাত্রদল কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।
হল সূত্র জানায়, হল সংসদের ভিপি মুসলিমুর রহমান ও এজিএস মুশফিক তাজওয়ার মাহি ছাদে মাদক সেবনের খবর পেয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে চারজনকে গাঁজা সেবন করতে দেখে তাদের পরিচয় জানতে চান এবং বিষয়টি প্রক্টরিয়াল টিমকে অবহিত করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে আটককৃতদের কাছ থেকে তামাক পাতা, গাঁজা ও কল্কি উদ্ধার করা হয়।
আটক বহিরাগত সামিউল জানান, তিনি ও রাকিব ডেমরা এলাকায় বসবাস করেন। ধানমন্ডিতে একটি কাজে এসে রাত হয়ে যাওয়ায় পরিচিতদের সঙ্গে হলে আসেন। অন্য হলের ছাদে কেন অবস্থান করছিলেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে এসেছিলেন এবং শরীর ভালো না লাগায় ছাদে উঠেছিলেন।
এ বিষয়ে তানবীন আহমেদ বলেন, তারা ওই হলে একটি কাজে গিয়েছিলেন এবং পরে অসুস্থ বোধ করায় ছাদে যান। মাদক সরঞ্জাম বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করলেও প্রমাণ দেখানো হলে স্বীকার করেন যে সেগুলো তাদের সঙ্গেই ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য রিপন জানান, সংবাদ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। বহিরাগতদের সাধারণত থানায় সোপর্দ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি বলে তিনি জানান।
হল সংসদের এজিএস মুশফিক তাজওয়ার মাহি বলেন, তার রুম থেকে পুরাতন ভবনের ছাদ দেখা যায়। গভীর রাতে সেখানে লোকজন দেখতে পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পুরাতন ভবনে লোকজন কম থাকায় আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের সময় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা ছিল এবং সেই নীতির ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীরা তাদের নির্বাচিত করেছে। এক হলের শিক্ষার্থী হয়ে অন্য হলে বহিরাগত নিয়ে মাদক সেবনের ঘটনায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার পর প্রক্টরিয়াল টিম পাঠানো হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি হলের অভ্যন্তরে ঘটেছে, তাই হল প্রশাসন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।