ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

অব্যবস্থাপনায় ধুঁকছে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল

অব্যবস্থাপনায় ধুঁকছে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীনস্থ ‘কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল’ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা সংকটে জর্জরিত। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে শ্রেণিকক্ষ, অকার্যকর ফ্যান-লাইট, পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর ওয়াশরুম—সব মিলিয়ে শিক্ষার ন্যূনতম পরিবেশ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

স্যাঁতসেঁতে কক্ষে ক্লাস

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনের নিচতলায় প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলছে। ছোট ছোট প্রায় ১০–১১টি কক্ষে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হলেও অধিকাংশ কক্ষেই ফ্যান ও লাইট ঠিকমতো কাজ করে না। পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থাও নেই। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন পাঠ নিতে হচ্ছে।

স্কুলটিতে রয়েছে মাত্র একটি ওয়াশরুম, যার অবস্থাও নাজুক। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—সবাইকে একই ওয়াশরুম ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কমছে আগ্রহ

মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি স্কুল রয়েছে—এ তথ্যও অনেকের অজানা। সন্তানের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ না পেয়ে অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা ময়মনসিংহ শহরে বসবাস করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠার পটভূমি

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন রয়েছে। ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর একাডেমিক কাউন্সিলের ১৭তম সভার সুপারিশ এবং ৫০তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য একটি কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ‘কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল’ স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. লুপা খাতুন বলেন, “বিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই নাজুক। পরিবর্তন হওয়াটা এখন জরুরি। একটি বোর্ড পর্যন্ত ঠিক নেই। স্কুলের একটি টেবিল ইট দিয়ে কোনোভাবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। স্কুল পরিচালনা কমিটি থাকলেও গত উপাচার্যের সময় কোনো সভা হয়নি।”

স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা বলেন, “স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি মহৎ ছিল। কিন্তু প্রক্রিয়াগত কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তা প্রত্যাশিতভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ স্কুল পরিচালনা ও বাজেটের জন্য একটি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রয়োজন, যা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই।”

নতুন ভবনের আশ্বাস

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভবন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে এবং আগামী জুনের মধ্যে তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে কলেজের অনুমোদন এবং স্কুলের পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা কমিটির দ্রুত একটি সভা ডাকা হবে। সেখানে স্কুল-সংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল,অব্যবস্থাপনায় ধুঁকছে
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত