ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জাবিতে জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন

জাবিতে জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)-এ জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি সংসদ।

বুধবার (১ জুলাই) রাত ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য-২৪ স্মৃতিস্তম্ভে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত সবাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

এ সময় উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “জুলাই মানেই ঐক্য; অনৈক্য, বিভ্রান্তি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি নতুন জাতীয় চেতনার নাম জুলাই। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয়।”

তিনি সবাইকে জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিভাজন ও ষড়যন্ত্রের ঊর্ধ্বে উঠে দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ-এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। তাই অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতি অপরিহার্য। সরকারের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগে সেই ভারসাম্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। তাদের রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন সব রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছিল। তবে আন্দোলনের পর ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বিভাজনের কারণে জুলাইয়ের প্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই জুলাইয়ের চেতনা ও মূল্যবোধ ধারণ করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় ভিপি জিতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত বছরের মতো এবারও জুলাইজুড়ে কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ দ্রুত ঘোষণা করা উচিত। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের সবার অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়নের দাবি জানান।

জাবি ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রথম প্রহরে অদম্য-২৪ স্মৃতিস্তম্ভে জুলাইয়ের সহযোদ্ধা, শিক্ষক ও সাহসী সাংবাদিকদের একসঙ্গে দেখতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ বছরও যেন যথাযথ মর্যাদায় ও সুশৃঙ্খলভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘোষিত ১৫ জুলাই ‘কালোরাত্রি’ একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা এবং জুলাই উদযাপনের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি দ্রুত প্রকাশের দাবি জানান।

জিয়া উদ্দিন আয়ান আরও বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সব ছাত্রসংগঠনকে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। একই সঙ্গে আশুলিয়া ও সাভার অঞ্চলের জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই হামলায় জড়িতদের বিচার এখনও সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে পুনর্তদন্ত করে দোষীদের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রব-সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মোমবাতি প্রজ্বলন,শহীদদের স্মরণে,প্রথম প্রহর,জুলাই,জাবি
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত