
২০২৫ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম কয়েকজন কিশোরকে মাদকসেবনের অভিযোগে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। আটক কিশোরদের মধ্যে দুজন তুহিনের সদস্য ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ঘটনার প্রতিহিংসার জেরে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার (শীলা)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে অপ্রতিমের মায়ের পক্ষ থেকে এ দাবি জানান তিনি।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাদকবিরোধী অভিযানে তৎকালীন প্রক্টরিয়াল বডি সাতজন কিশোরকে আটক করে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ওই সময়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন ড. নাহিদা বেগম। ক্যাম্পাসে মাদকবিরোধী তৎপরতা প্রতিরোধেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টরা জানান।
ড. কামরুন নাহার বলেন, ‘আমি নাহিদা ম্যামের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি দাবি জানান, তার সন্তানের হত্যার সূত্র উদ্ঘাটন করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক। ২০২৫ সালে তিনি যখন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেন, তখন কয়েকজন কিশোরকে মাদক সেবনরত অবস্থায় ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছিলেন। অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও দেখা দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে রাষ্ট্রের আইন সংস্কার করেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম (১৩)। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে দক্ষিণ সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।