অনলাইন সংস্করণ
১১:২১, ০৮ মে, ২০২৬
বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। থ্যালাসেমিয়া রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতেই প্রতি বছর ৮ মে দিবসটি পালন করা হয়।
এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘আর নয় আড়ালে : শনাক্ত হোক অজানা রোগী, পাশে দাঁড়াই অবহেলিতদের’।
দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করছেন বলে ধারণা করা হয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ নীতি অনুসরণ করছে এবং থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে এ নীতি সবচেয়ে কার্যকর।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার একটি আধুনিক ও জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। রোগীদের স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য জানতে পারবেন এবং দেশের যেকোনো স্থানে চিকিৎসা নিলেও চিকিৎসক সহজেই রোগীর প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তরোগ। মানবদেহে রক্ত তৈরির জন্য দুটি জিন থাকে। এর মধ্যে একটি জিনে ত্রুটি থাকলে ব্যক্তি বাহক হিসেবে পরিচিত হন, আর দুটি জিনেই ত্রুটি থাকলে তিনি থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হন। তবে সব বাহক রোগী হন না।
সাধারণত শিশু জন্মের এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই এ রোগ শনাক্ত হয়। রোগটির লক্ষণের মধ্যে রয়েছে শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, ঘন ঘন সংক্রমণ, ওজন না বাড়া, জন্ডিস এবং খিটখিটে মেজাজ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।