ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আরাফাতের ময়দানে সমবেত লাখো হাজি, হজের মূল পর্ব শুরু

আরাফাতের ময়দানে সমবেত লাখো হাজি, হজের মূল পর্ব শুরু
ফাইল ছবি

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ‘উকুফে আরাফা’ পালনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ১৬ লাখের বেশি হাজি আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ভোর থেকেই হাজিরা আরাফাতের প্রান্তরে পৌঁছাতে শুরু করেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করে ইবাদত, দোয়া, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরে সময় কাটাবেন। পুরো এলাকায় বিরাজ করছে গভীর আধ্যাত্মিক আবহ।

সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ জানিয়েছে, সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, হজের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এই ধাপে অংশ নিতে ১৬ লাখের বেশি হাজি আরাফাতে সমবেত হয়েছেন।

ইসলামী ঐতিহ্যে আরাফাতে অবস্থানকে হজের মূল স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়। হজের গুরুত্ব তুলে ধরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “হজ হলো আরাফা।” ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, দিনটি রহমত, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির অন্যতম পবিত্র সময়।

৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.)-এর বিদায় হজের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এই আরাফাতের সঙ্গে। এখানকার জাবালে রহমতে তিনি ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ দেন, যেখানে ন্যায়বিচার, সাম্য এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের মর্যাদা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে হাজিদের উদ্দেশে আরাফার খুতবা দেওয়া হবে। এরপর সুন্নাহ অনুযায়ী হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আকারে আদায় করবেন।

সারাদিন হাজিরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, তালবিয়া, তাকবির ও দোয়ায় মশগুল থাকবেন। অনেকেই আরাফাতের জাবালে রহমত বা ‘রহমতের পাহাড়ে’ গিয়ে ইবাদতে অংশ নিচ্ছেন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানেই হজরত আদম (আ.) ও হজরত হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলন হয়েছিল। তাই মুসলমানদের কাছে এর বিশেষ ধর্মীয় ও প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে।

এর আগে হাজিরা মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ পালন করেন। আরাফাতের মূল আনুষ্ঠানিকতার আগে মিনায় অবস্থান করে তারা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপের জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নেন।

চলতি বছর হজ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। পবিত্র স্থানগুলোতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন নেটওয়ার্ক ও জরুরি সহায়তা ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার কারণে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হাজিদের পর্যাপ্ত পানি পান এবং দীর্ঘ সময় রোদে না থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

মঙ্গলবার সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে রাতযাপন করবেন। পরদিন শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের প্রস্তুতিও সেখানেই নেওয়া হবে।

হজ,আরাফাতের ময়দান,উকুফে আরাফা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত