
মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত ঘোষণা করেছে ইরান। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু লেবাননের আরও গভীরে সৈন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, লেবাননে জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর (ইসরায়েল) চলমান অপরাধযজ্ঞের কারণে এবং যুদ্ধবিরতির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে লেবানন অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও সব ফ্রন্টে এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হওয়ায়, ইরানের আলোচনাকারী দল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান সব সংলাপ এবং নথিপত্র বিনিময় স্থগিত করছে।
পরোক্ষ এই আলোচনা আবার শুরু করার জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, আলোচনার টেবিলে ফিরতে হলে গাজা এবং লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ‘অবিলম্বে বন্ধ’ করতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে দখল করা এলাকাগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিতে হবে।
২০০০ সালে লেবানন থেকে দীর্ঘ দখলদারত্ব অবসানের পর এবারই প্রথম ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের দক্ষিণে এত গভীরে প্রবেশ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির বাসিন্দাদের বিমান হামলার আগেই এলাকা খালি করার নির্দেশ বা সতর্কতা জারি করেছে।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরান এবং তার মিত্ররা হরমুজ প্রণালি ফের সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ অন্যান্য ফ্রন্টগুলো সক্রিয় করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই সমুদ্রপথগুলো অবরুদ্ধ হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
আবা/এসআর/২৬