অনলাইন সংস্করণ
২০:২২, ২৭ জুন, ২০২৬
ভারত গোপন কৌশল এবং প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করে পাকিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
শনিবার করাচিতে পাকিস্তান নৌবাহিনী একাডেমিতে ১২৫তম মিডশিপম্যান এবং ৩৩তম শর্ট সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন নিউজের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তান বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ক্ষেত্রেই বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের মে মাসের সংঘাতে অপমানজনক পরাজয়ের পর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশ (ভারত) সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে এখন পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে গোপন চক্রান্ত ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। শুধু পূর্ব সীমান্তই নয়, পশ্চিম সীমান্ত থেকেও বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বড় ধরনের হুমকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীকে। তবে এই লড়াইয়ে দেশের সাধারণ জনগণ সশস্ত্র বাহিনীর পাশে রয়েছে এবং একই সাথে পাকিস্তান শান্তি, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সব অমীমাংসিত বিরোধ নিষ্পত্তির নীতিতে অটল রয়েছে।
বক্তব্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্বকে এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এমতাবস্থায় পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী দেশ হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর বিশেষ সহায়তায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাতেই মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজে স্বাক্ষর করার সুযোগ পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর পাশাপাশি কাশ্মীরি জনগণ, গাজার বাসিন্দা এবং নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে পাকিস্তানের নৈতিক সমর্থন বরাবরের মতোই অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শেহবাজ শরিফ।
পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেওয়া নবীন নৌ-কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিশেষ কোর্সে বাংলাদেশ, তুরস্ক, বাহরাইন, ইরাক, শ্রীলঙ্কা ও জিবুতির তরুণ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ তাকে ভীষণ আনন্দিত করেছে। পাকিস্তান নৌবাহিনী একাডেমি থেকে অর্জিত উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা এই কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দেশের নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।