ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আয় বাড়াতে ইজারায় যাচ্ছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১১ ট্রেন

আয় বাড়াতে ইজারায় যাচ্ছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১১ ট্রেন

লোকসান কমিয়ে আয় বাড়াতে ইজারা দেওয়া হবে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১১টি ট্রেন। ইজারা দেওয়ার অনুমোদন চেয়ে রেল সদর দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘১১টি মেইল ও লোকাল ট্রেন ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সদর দপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এরপর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ট্রেনগুলো ইজারা দেওয়া হবে।’

পশ্চিমাঞ্চল রেল ও পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছর মোটা অঙ্কের লোকসান হচ্ছে। এতে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। রাজস্ব বাড়ানোর জন্য ১১টি মেইল ও লোকাল ট্রেন বেসরকারি অপারেটরদের কাছে হস্তান্তরের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, অপারেটরদের হাতে ট্রেন গেলে ভাড়া আরও বাড়তে পারে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে ৬২টি আন্তনগর ট্রেন, ৫৫টি মেইল ও কমিউটার ট্রেন এবং ১২টি লোকাল ট্রেন চলাচল করছে। এর মধ্যে বেসরকারি অপারেটরদের কাছে ২৪টি মেইল, কমিউটার ও লোকাল ট্রেন ইজারা দিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আয় হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চল রেল বারবার তার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৩ কোটি ৭৬ লাখ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করেছে। এর বিপরীতে আয় করেছে ৬৪৯ কোটি টাকা। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। আয় হয়েছে ৬২১ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১০ মাসে (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) ৮২৫ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা ছিল; কিন্তু আয় হয়েছে ৫৬৬ কোটি টাকা।

পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ১০ থেকে ১২টি ট্রেন ধারাবাহিকভাবে লাভজনক ছিল। সেগুলো রাজশাহী-ঢাকা, ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী-খুলনা এবং রাজশাহী-পার্বতীপুর রুটে চলাচল করে। কম ভাড়া, পরিচালন ব্যয় এবং টিকিটবিহীন ভ্রমণের কারণে বেশির ভাগ মেইল ও লোকাল ট্রেনে লোকসান অব্যাহত আছে।

অনেক যাত্রী স্থানীয় রুটে টিকিট ছাড়াই যাতায়াত করছেন। আবার অনেক যাত্রী কাউন্টার থেকে টিকিট কেনার পরিবর্তে ট্রেনের কর্মীদের টাকা দিয়ে চলাচল করছেন।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক আনসার আলী বলেন, ‘অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের ফলে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। আরও কর্মী নিয়োগ করা হলে, এ ট্রেনগুলো থেকে প্রাপ্ত আয়ের চেয়ে খরচ বেশি হলেও ইজারা দেওয়া বেশি লাভজনক হবে। লোকাল ট্রেন থেকে কম আয়ের অন্যতম প্রধান কারণ যাত্রীদের টিকিট কিনতে অনীহা। এ কারণে আমরা ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘রাজস্ব বৃদ্ধি এবং সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। সব মেইল ও লোকাল ট্রেনে সঠিকভাবে টিকিট পরীক্ষা করার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। সব ট্রেনের আয়-ব্যয়ের হিসাব সম্মিলিতভাবে তৈরি করা হয়। প্রতিটি মেইল বা লোকাল ট্রেনের বছরে কত লোকসান হয়, তা দেখানোর জন্য কোনো পৃথক হিসাব নেই।’

১১ ট্রেন,পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে,আয় বাড়াতে,ইজারা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত