
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা একটি শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে বহু ভবন ধসে এখন পর্যন্ত ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের ‘সান হোসে দেল পালমার’ এলাকায় এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০৭ কিলোমিটার নিচে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়ে দেশটির তৃতীয় সর্বাধিক জনবহুল কালি শহরের ২৭ জন নিহত হয়েছেন।
শহরের মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, শহরজুড়ে অন্তত ২৫টি ভবন ধসে পড়ে এখনো বহু মানুষ আটকে আছেন। তাদের উদ্ধারে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে।
এছাড়া পর্যটন নগরী পেরেইরাতে ১৮ জন এবং মানিজালেস শহরে ২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
পেরেইরা শহরের মেয়র মাউরিসিও সালাজার স্থানীয় রেডিও স্টেশন 'কারাকোল'-কে জানান, তার শহরেই অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও অনেকে বিধ্বস্ত ভবনগুলোতে আটকা পড়েছেন।
এদিকে দেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো এবং বুয়েনাভেন্তুরাসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দরে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এসব বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, কম্পনটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এটি কেবল কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেই নয়, প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডর, পানামা এবং দূরবর্তী ভেনিজুয়েলাতেও বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, বোগোতাসহ অনান্য শহরের অসংখ্য মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বহুতল আবাসিক ভবন ও অফিস ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। রাস্তায় জমায়েত হওয়া এসব মানুষের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ এবং অনেককে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে।
এর আগে গত জুনের শেষভাগে পার্শ্ববর্তী ভেনেজুয়েলায় দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। শক্তিশালী ওই জোড়া ভূমিকম্পে ৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং শত শত ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
আবা/এসআর/২৬