ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনসহ মন্ত্রিসভায় তিন সিদ্ধান্ত

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনসহ মন্ত্রিসভায় তিন সিদ্ধান্ত

‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া এবং ‘ভিসা নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৬তম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তপশিলি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব বা অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ যেকোনো ঝুঁকি সময়মতো মোকাবিলা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়। অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপন করা হলে তা বিশদ পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় ‘বিশেষ কমিটি’র কাছে পাঠানো হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ আইনের প্রস্তাব করে।

বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে উপস্থাপনের সুপারিশ করে। ওই সুপারিশের আলোকে অধ্যাদেশের কিছু বিধান বিধিমালার মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য পৃথক করা হয়।

এছাড়া সরকারের আর্থিক দায়ভার, গ্রাহকদের স্বার্থ এবং ব্যাংকিং খাতের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আইনে নতুন ধারা ১৮ক সংযোজন করে বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে উত্থাপিত আকারেই ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ পাস হয়।

প্রচলিত রেজল্যুশন ব্যবস্থার পাশাপাশি একটি বাজারভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থা চালু, রেজল্যুশনের আওতাধীন ব্যাংককে সচল রেখে পুনর্গঠন, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট দূরীকরণ, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সরকারের আর্থিক সংশ্লেষ কমানোর লক্ষ্যে ধারা ১৮ক সংযোজন করা হয়।

তবে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’-এর ১৮ক ধারার সব শর্ত পরিপালন করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

এদিকে বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা, পারস্পরিকতা নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক ও সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ভিসা নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিদ্যমান ভিসা পদ্ধতিকে যুগোপযোগী, নিরাপদ, গতিশীল ও সহজ করার উদ্দেশ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। ‘ভিসা নীতিমালা, ২০০৬’-এ ভিসার ৩৩টি ক্যাটাগরি ছিল। নতুন নীতিমালায় ৩৪টি ভিসা ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর ভিত্তিতে আগের সব ভিসা-সংক্রান্ত সার্কুলার বাতিল করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি সমন্বিত ও আধুনিক ভিসা কাঠামো তৈরি করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো সমন্বিতভাবে এটি বাস্তবায়ন করবে।

একইসঙ্গে মন্ত্রিসভা ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গীকার। মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণ রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য। জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা এবং মানবাধিকার-সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন, সনদ ও চুক্তি পরিপালনেও বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণের জন্য একটি কার্যকর ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

মানবাধিকার,খসড়া,অনুমোদন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত