অনলাইন সংস্করণ
১৪:৩১, ২২ আগস্ট, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যাওয়ার পর দেশটির পণ্যের ওপর সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
বিবিসি লিখেছে, শনিবার মধ্যরাত থেকে ওয়াশিংটন কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করার পরপরই অটোয়া এই ‘ডলারের বদলে ডলার'নীতির সিদ্ধান্ত নেয়।
শুক্রবার রাতের সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে কার্নি বলেন, শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক। এর ফলে যেকোনো চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
গত জুলাই থেকে দুই দেশের আলোচকরা নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ১৯ অগাস্ট নাগাদ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার) মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প সাময়িকভাবে ওই শুল্ক স্থগিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দুই দেশ এমন একটি বাণিজ্য চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা উভয় দেশের জন্য 'খুব ভালো' হবে।
কিন্তু চুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে কার্নি বলেন, আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও তা কানাডীয়দের জন্য আমাদের লক্ষ্য পূরণের মতো যথেষ্ট নয়।
তিনি বলেন, এর ফলে আজ সন্ধ্যায় আমি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আলোচকদের অটোয়ায় ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছি। শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক। এর ফলে যেকোনো চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
কার্নির ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, আজ রাতে কানাডা এ সপ্তাহের শুরুতে সম্মত হওয়া শর্ত অনুযায়ী বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের বাজারে রপ্তানি করা বড় দেশগুলোর মধ্যে কানাডাকে সবচেয়ে সুবিধাজনক শুল্ক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল। কিন্তু কানাডার নতুন কিছু দাবি এবং আগে দেওয়া কিছু প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার কারণে গত কয়েক দিনে সতর্কতার সঙ্গে যে ভারসাম্য তৈরি হয়েছিল, তা ভেস্তে গেছে।
আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় সপ্তাহের শুরুর তুলনায় দুই দেশের অবস্থানে বড় পরিবর্তন এসেছে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কর্মকর্তারা আশাবাদী ছিলেন যে, উভয় দেশের জন্য লাভজনক একটি বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে।
খবরে বলা হয়েছিল, আলোচকরা এমন একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিলেন, যাতে কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ এবং কানাডীয় গাড়ির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে।
এর বিনিময়ে কার্নি কানাডার প্রদেশগুলোকে দোকানের তাকগুলোতে আবার যুক্তরাষ্ট্রের মদ রাখার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই দুই প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ওই সময় ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের কর্মসূচি শুরু করেন, যা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দশকের মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দেয়।
এখন আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ট্রাম্প ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্ট নামে মহামন্দার যুগের একটি আইনের আওতায় কানাডার ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন।
ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর এসব শুল্ক কার্যকর হবে। এর পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই যে শুল্ক আরোপ করেছে, সেগুলোও বহাল থাকবে।
কার্নির ঘোষণার পর কানাডার সবচেয়ে বড় প্রদেশ অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড বলেন, কঠোর জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে---শুল্কের জবাব শুল্ক দিয়ে, ডলারের বিপরীতে ডলার।
গত বছর ট্রাম্পের শুল্কের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কানাডার বেশিরভাগ প্রদেশ যুক্তরাষ্ট্রের মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
কানাডার প্রতিষ্ঠান অ্যাবাকাস ডেটার সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৩৬ শতাংশ কানাডীয় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের পাল্টা জবাব দেওয়াকে সমর্থন করবেন। অন্যদিকে আরও ৩০ শতাংশ চান, কার্নি সরকার আলোচনা চালিয়ে যাক।
পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র 'পাল্টা শুল্ক সহ্য করবে না'।