অনলাইন সংস্করণ
১২:৩৯, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালন করলেই কেবল তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) মেনে চলবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে হুমকির জবাব হবে দৃঢ় ও অনিবার্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সমঝোতা পারস্পরিকতা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে হতে হবে।
তিনি লেখেন, 'পারস্পরিক সমঝোতা একতরফা বিষয় নয়। মার্কিন পক্ষ যদি চুক্তি মেনে চলে, আমরাও আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করব।'
ইরানি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের 'অযৌক্তিক বক্তব্য' ও 'ভিত্তিহীন হুমকির' ব্যাপারে তেহরানের অবস্থান হবে যুক্তিগ্রাহ্য সতর্কতা এবং মানবিক মর্যাদার প্রতি সম্মানের ভিত্তিতে। তবে প্রয়োজন হলে ইরান ‘দৃঢ় ও নির্ভীকভাবে আত্মরক্ষা করবে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা
পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এসেছে ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে। গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত হয়।
ওই চুক্তির মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটে এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ফ্রন্টে উত্তেজনা কমানোর একটি কাঠামো তৈরি হয়।
সমঝোতায় হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ইরানের তেল রপ্তানি এবং জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ আরও বিস্তৃত বিষয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনা প্রাথমিক ধারাগুলো বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সপ্তাহান্তের হামলায় নাজুক কূটনীতি আরও চাপে পড়ল
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই কয়েক দিনের নতুন সামরিক সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে দুই দফা হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছিল। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) রোববার কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন হামলাকে চুক্তির 'স্পষ্ট লঙ্ঘন' হিসেবে নিন্দা করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার রাতে সতর্ক করে বলেন, ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্রকে 'সামরিকভাবে কাজটি সম্পূর্ণ করতে' হতে পারে।
তবে রোববার ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালির কাছে পাল্টাপাল্টি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান 'এই মুহূর্তে সংঘাত থেকে সরে দাঁড়াবে'।
দোহা বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা
আরেক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, পরবর্তী আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মঙ্গলবার কাতারের দোহায় বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে।
সোমবার দোহা বৈঠক সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, বৈঠকটি 'হয়তো গুরুত্বপূর্ণ, হয়তো নয়।'
অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় অগ্রগতি সম্ভব হবে কেবল তখনই, যখন উভয় পক্ষ নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালন করবে এবং একতরফা পদক্ষেপ এড়াবে।
পেজেশকিয়ানের সর্বশেষ বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়---তবে সেটি হতে হবে পারস্পরিক দায়িত্ব ও উভয় পক্ষের সমঝোতা বাস্তবায়নের ভিত্তিতে।
ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত
তেহরান আবারও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একইভাবে চুক্তির শর্ত মেনে চললে ইরানও সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, পারস্পরিক সমঝোতা দুই পক্ষেরই দায়িত্ব। হুমকির জবাব দেওয়া হবে বুদ্ধিমত্তা ও সতর্কতার সঙ্গে, তবে প্রয়োজনে দৃঢ় প্রতিরক্ষার মাধ্যমে।
পেজেশকিয়ানের বার্তায় এটা স্পষ্ট হয় যে, ইরান চুক্তি মেনে চলতে প্রস্তুত, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকেও তার দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।