অনলাইন সংস্করণ
১৯:৩৫, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আলোচনায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেন।
সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে সম্ভাব্য মধ্যস্থতা নিয়ে সৌদি আরবের অবস্থান বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
পৃথকভাবে টেলিগ্রামে করা এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘রাজনৈতিক সমাধানকে উপেক্ষা করে সামরিক পন্থার ওপর জোর দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। এই অঞ্চলের সংকটগুলোর কোনো সামরিক সমাধান নেই’।
তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে এবং একটি রাজনৈতিক সমাধানে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা প্রদানে ইরান প্রস্তুত।’
এদিকে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও জোর দিয়ে বলেন, তেহরান আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনে আগ্রহী।
তিনি বলেন, ‘আমরা দুটি মুসলিম দেশের মধ্যে শত্রুতা চলতে দিতে চাই না, বিশেষ করে যখন এই অঞ্চলটি ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সৃষ্ট উত্তেজনার সম্মুখীন।’
বাঘাই আরও বলেন, ‘আমরা ধারাবাহিকভাবে জোর দিয়ে এসেছি যে, ইয়েমেনের জনগণের চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধমুক্ত থেকে মর্যাদার সাথে জীবনযাপন করার অধিকার রয়েছে।’
তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করার জন্য ইরানের প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ইরানের এ প্রস্তাব এলো। বিশেষ করে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণহানি ও বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় যখন সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।