অনলাইন সংস্করণ
১৪:৫১, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তেহরান ও মস্কোর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ও সমঝোতাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, দুই দেশ তাদের অভিন্ন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সদ্ব্যবহার করে শান্তি, টেকসই নিরাপত্তা ও বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান দুই দেশের সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পরিধি বাড়ানো, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদার করা এবং তেহরান-মস্কোর কৌশলগত সম্পর্কের আওতায় সম্পাদিত চুক্তিগুলো নিয়মিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক ও টেলিফোনে আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, দুই দেশের সমঝোতা, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং যৌথ সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁর আসন্ন মস্কো সফরে চুক্তিগুলো বাস্তবে এগিয়ে নেওয়া এবং সম্মত খাতগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনের প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হবে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট, সরকার ও জনগণের অবস্থান এবং সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থে পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকের আরেক অংশে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে শহীদ করা, সামরিক কমান্ডার, বিজ্ঞানী ও শিক্ষার্থীদের হত্যা এবং দেশের অবকাঠামোতে হামলার কোনো আইনি বা আন্তর্জাতিক যুক্তি নেই। এসব ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার পথে এগোচ্ছিল।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, কোনো দেশ শক্তি ও চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার ব্যবহার করে অন্য জাতির ওপর নিজেদের ইচ্ছা ও দাবি চাপিয়ে দেবে—ইরান তা মেনে নেয় না।
তিনি বলেন, ইরান এমন একটি বিশ্বব্যবস্থা চায়, যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, জাতিগুলোর অধিকার রক্ষা, গঠনমূলক সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। তাঁর মতে, এসব বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গেও ইরানের দৃষ্টিভঙ্গির মিল রয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ তেহরানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে মস্কোর আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তেল ও গ্যাস, যোগাযোগ ও গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক বিনিময়, পরিবহন, জ্বালানি এবং বিজ্ঞান ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণ দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ইরান ও রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গির মিলের কথা উল্লেখ করে ল্যাভরভ কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখা এবং বিদ্যমান সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
কাস্পিয়ান সাগরবিষয়ক সমঝোতার প্রসঙ্গ তুলে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দুই দেশের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক সমন্বয় বাড়াতে যৌথ সহযোগিতা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, ইরান-রাশিয়ার সহযোগিতা সম্প্রসারণ অভিন্ন লক্ষ্য অর্জন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।