
যেকোনো আদর্শ বা ধর্মে দীক্ষিত হওয়া যতটা সহজ, তার মর্মার্থ, পবিত্রতা রক্ষা, আদর্শ, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও নিয়মকানুন শতভাগ পালন করা ততটা কঠিন। ইসলাম শুধু কিছু উৎসব বা অনুষ্ঠানের নাম নয়, বরং এটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান।
পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র মহান আল্লাহ প্রদর্শিত নিয়মানুযায়ী পরিচালনা করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন ও দুনিয়াবাসীর কল্যাণ সাধনই ইসলামের মূল লক্ষ্য। এ বিধানের মূলভিত্তি হলো ঈমান। এ বিশ্বাসের ভিত্তি মজবুত করার জন্য প্রয়োজন সঠিক জ্ঞান। ঈমান বিষয়ে পরিপূর্ণ সঠিক জ্ঞান থাকলে কেউই সহজে পথভ্রষ্ট হবে না। এ কারণেই পবিত্র কোরআনের প্রথম নির্দেশ হলো, ‘পড় তোমার রবের নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আলাক : ১)। যথাযথ জ্ঞান না থাকলে সামান্য প্ররোচনায় বা অপপ্রচারে মানুষ তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হতে পারে, যা ব্যক্তিকে যেমন পথভ্রষ্ট করে, সমাজকেও অস্থিতিশীল করে তোলে।
ইসলাম নিয়ে কটূক্তি হলো আদর্শিক বিচ্যুতি :
ইসলামের পরিভাষায় মুরতাদ বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যে সজ্ঞানে ইসলাম গ্রহণ করার পর তা পরিত্যাগ করে এবং ইসলামের মৌলিক বিধান বা পবিত্র বিষয়াবলি নিয়ে কটূক্তি ও বিদ্রূপ করে। সভ্য সমাজে প্রতিটি মানুষের নিজস্ব বিশ্বাসের অধিকার আছে, কিন্তু সেই অধিকার যখন অন্য কোটি কোটি মানুষের প্রাণের বিশ্বাসকে আঘাত করার হাতিয়ার হয়, তখন তা আর ব্যক্তিগত থাকে না। যখন কেউ নিজের শেকড় বা বিশ্বাসকে উপহাস করে, তখন তা সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও পারস্পরিক বিদ্বেষের বীজ বপন করে। বিশ্বাসের এ বিচ্যুতি শুধু ব্যক্তির ক্ষতি নয়, বরং সামাজিক সংহতির জন্য বড় হুমকি।
বাকস্বাধীনতার নামে চরম স্বেচ্ছাচারিতা :
বর্তমান সময়ে একদল মানুষ ‘বাকস্বাধীনতা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’র দোহাই দিয়ে অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে। তারা এ মহান শব্দকে ঢাল বানিয়ে কুৎসিত আক্রমণ চালাচ্ছে। অথচ প্রকৃত বাকস্বাধীনতা মানে এ নয়, কারও পবিত্র বিশ্বাসকে নোংরাভাবে বিদ্রূপ করা হবে। স্বাধীনতার সঙ্গে সবসময় দায়বদ্ধতা মিশে থাকে। আল্লাহতায়ালা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে অন্য ধর্মের উপাস্যদের নিয়েও গালি দিতে নিষেধ করেছেন, ‘(মোমিনগণ!) আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের তারা ডাকে, তোমরা তাদের গালি দিও না। কেননা, তারা তাদের অজ্ঞতাপ্রসূত শত্রুতার বশবর্তী হয়ে আল্লাহকে গালি দেবে। এভাবেই আমি প্রত্যেক জাতির জন্য তাদের কার্যকলাপকে তাদের দৃষ্টিতে চাকচিক্যময় করে দিয়েছি। এরপর তাদের প্রত্যাবর্তন (ঘটবে) তাদের প্রতিপালকের কাছে। তখন তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন যা কিছু তারা করত।’ (সুরা আনআম : ১০৮)। ইসলাম যেখানে অন্যের বিশ্বাসের প্রতিও ন্যূনতম শিষ্টাচার শেখায়, সেখানে স্বাধীনতার নামে নিজের ধর্মের বা অন্য ধর্মের অবমাননা করা কোনোভাবেই অধিকার হতে পারে না; বরং এটি চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও অপরাধ।