অনলাইন সংস্করণ
১৪:৫৭, ২১ মার্চ, ২০২৬
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ময়দানে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া জামাতটি ছিল ময়দানের ১৯৯তম ঈদ জামাত; সেখানে আনুমানিক ছয় লাখ মানুষ নামাজ আদায় করেন।
জামাত পরিচালনা করেন স্থানীয় বড় বাজার মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল খায়ের মো. সাইফুল্লাহ।
জামাতে অংগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যদের সমন্বয়ে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও মেডিকেল টিমও দায়িত্ব পালন করে।
নামাজ শেষে শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ বলেন,স্মরণকালের বৃহত্তম এবারের ঈদ জামাতে আনুমানিক ছয় লাখ মানুষ নামাজ আদায় করেছেন।
এর আগে শোলাকিয়া ময়দানে সকাল ৯টার আগেই মানুষের ঢল নামে এবং বিশাল ঈদগাহ ময়দান পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে তিনবার বন্দুকের গুলি ছুড়ে নামাজ শুরুর সংকেত দেওয়া হয়। জামাত ও খুতবার পর বাংলাদেশসহ মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দূর-দূরান্ত থেকে আগতদের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ আয়োজন করে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন। একটি সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ময়মনসিংহ থেকে এবং অন্যটি সকাল ৬টায় ভৈরব থেকে ছেড়ে আসে। জামাত শেষে অংশগ্রহণকারীরা বেলা ১২টায় ওই ট্রেনে করে ফিরে যান।
বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, স্থানীয় সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা প্রশাসক আসলাম মোল্লা ও পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের মানুষ জামাতে অংশগ্রহণ করেন।
২০১৬ সালের শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার পর এবারের ঈদ জামাতে চার স্তরের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নামাজ চলাকালীন ৫ প্লাটুন বিজিবি, ১১০০ পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্য সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়।
মাঠে সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিও ছিল। প্রবেশপথে সিসি ক্যামেরা ও ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার, আকাশে চারটি ড্রোন ক্যামেরা এবং মাঠে ছয়টি ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয়।
মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়বত খান বাহাদুর কিশোরগঞ্জের জমিদারি প্রতিষ্ঠার পর ইংরেজি ১৮২৮ সনে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জমির ওপর এ ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন।
ওই বছর শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম জামাতে সোয়া লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেন বলে মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখি মাঠ’। সেখান থেকে উচ্চারণের বিবর্তনে নাম ‘শোলাকিয়া মাঠে’ পরিণত হয়েছে। প্রায় সাত একর আয়তনের মাঠটিতে ২৬৫টি কাতার রয়েছে।