অনলাইন সংস্করণ
২১:১৭, ২৮ মার্চ, ২০২৬
জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও চোরাচালান রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু চক্র সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থাকার নির্দেশনাও দেন তিনি।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে সংসদ ভবনে সরকার দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও দেশে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অসাধু কিছু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব কার্যক্রম বন্ধে চিরুনি অভিযানসহ কঠোর ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
চিফ হুইপ আরও জানান, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টন তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং আরও ২ লাখ মেট্রিক টন তেল দেশে আসার পথে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ যাতে অপ্রয়োজনে তেল মজুত করতে না পারে এবং কোথাও তেলের দাম না বাড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল সংসদ অধিবেশনে জ্বালানি মন্ত্রী ৩০০ বিধিতে বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন।
বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়েও আলোচনা হয়। কেন এসব দুর্ঘটনা ঘটছে এবং ভবিষ্যতে তা প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সংসদীয় কমিটিকে অবহিত করেছেন।
সংসদীয় কার্যক্রম প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, দেশে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের সংসদ সদস্যদের নিয়মিতভাবে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা নিজ নিজ এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। এখন থেকে প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিং আয়োজন করা হবে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন নিয়ে তিনি জানান, এ বিষয়ে আজ বিস্তারিত আলোচনা না হলেও আগামী বৈঠকে সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনসহ অন্যান্য বিলের বিষয়ে ৩০ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।