ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

তিস্তা প্রকল্পে যথাসাধ্য সহযোগিতা করবে চীন : রাষ্ট্রদূত

তিস্তা প্রকল্পে যথাসাধ্য সহযোগিতা করবে চীন : রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, ঢাকার অনুরোধে উত্তরাঞ্চলের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে যথাসাধ্য সহযোগিতা করবে বেইজিং। প্রকল্পটির সঙ্গে নদীর আশপাশের মানুষের জীবিকা জড়িত। তাই, বৃহদায়তন এই প্রকল্পে এগিয়ে এসেছে চীন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বারিধারায় চীনের দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান।

ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘এর আগের সমঝোতা স্মারকটি হয়েছিল চীনের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু এখন আমরা এই প্রকল্পে সরকারি স্তরে সহযোগিতার কথা বলছি। চীনা প্রতিষ্ঠান নিজেদের সমীক্ষা চালাতে পারে। আমরা সেরা বিজ্ঞানীদের দিয়ে সমীক্ষা চালাব। প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে হলে অবশ্যই সমীক্ষার প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় চীন সরকার কাজ করে সমীক্ষা এগিয়ে নেবে। এ ব্যাপারে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিস্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ এবং উজান থেকে ভারত পানি না ছাড়লে এটি ফলপ্রসূ হবে কি না- এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এটা নিয়ে অন্য উপাদানের কথা বলছেন। এটা আমাদের বিবেচনার বিষয় নয়। বাংলাদেশের প্রত্যাশা অনুযায়ী চীন এগিয়ে এসেছে।’

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে ত্রিদেশীয় অর্থনৈতিক করিডরের বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘এটি নতুন উদ্যোগ নয়। আমরা ১৫ বছর আগে বিসিআইএমের (বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর) প্রস্তাব করেছিলাম। কিছু অগ্রগতি হলেও চীন যেভাবে চেয়েছিল, সেভাবে তা এগোয়নি। যেহেতু বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংযুক্তি চাইছে; চীনও আরও বেশি আঞ্চলিক সংযুক্তি চায়। আমি বিশ্বাস করি, মিয়ানমারও এ ধরনের সহযোগিতা চায়।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ছিল— তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর, স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ চীন প্রত্যাখ্যান করবে। আপনি কি এটি ব্যাখ্যা করতে পারেন? এমন প্রশ্নের জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, আমাদের বৈদেশিক নীতি হলো—চীন যেকোনো দেশে যে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের ঘোর বিরোধী। চীন নিজেও একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। অনেক বিদেশি অপশক্তি চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায়। এমনকি এখনও আমরা কিছু মহলের দ্বারা একই ধরনের অপচেষ্টার সম্মুখীন হচ্ছি। আপনাদের এটি বুঝতে হবে। তাই, বাংলাদেশ বর্তমানে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, তা আমরা পুরোপুরি বুঝতে পারি।

তিনি আরও বলেন, কাজেই বাংলাদেশের কাছে এই বার্তাটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে চীন বাংলাদেশের পাশে আছে। গত ৫০ বছর ধরে এটাই আমাদের নীতি।

চীনা রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘অন্য দেশের ব্যাপারে আমরা খোলামন নিয়ে আছি। তারা যদি তৈরি থাকে, তবে আমরা তাদের যুক্ত করতে তৈরি আছি। এটা তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু চীন এখন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে অর্থনৈতিক করিডর এগিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কৌশলকে আরো বিন্যস্ত করতে চায় ঢাকা-বেইজিং জানিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই সম্পর্ক ২০টির বেশি দেশের সঙ্গে চীনের রয়েছে। এই তালিকায় পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ এলো। চীন-বাংলাদেশ সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার যাত্রায় কূটনীতি ও প্রতিরক্ষাখাতে সমন্বয় সাধনের জন্য নতুন ‘প্ল্যাটফর্ম’ গঠনের আলোচনা চলার কথা বলেছেন তিনি।

আবা/এসআর/২৬

তিস্তা প্রকল্প,সহযোগিতা,চীন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত