অনলাইন সংস্করণ
১৮:৫৬, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
গ্যাস সংকটের সাময়িক সমাধান নয়, দীর্ঘমেয়াদে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে চায় সরকার। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সংকট বা যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে যেন আবারও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যেই স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ইআরএফ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও তেলের সংকট পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের প্রয়োজন হয়। আবার আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে যেসব উৎস থেকে গ্যাস আমদানি করা হতো, তারাও এখন নানা সংকটে রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো অজুহাত দেখাতে চায় না। গ্যাসের ক্ষেত্রে পুরোপুরি আমদানি নির্ভর না হয়ে দেশের নিজস্ব উৎস থেকেও গ্যাস সংগ্রহ করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানও করতে চায়।
প্রেস সচিব বলেন, ২০২২ সালের আগস্টে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছিল। তখন অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং সপ্তাহের কয়েক দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় একটি সরকার ক্ষমতায় থাকার পর যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের কারণে যদি অফিসের সময় পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে মাত্র ছয় মাস দায়িত্বে থাকা বর্তমান সরকারের ওপর অতীতের সব দায় চাপানো ঠিক হবে না।
‘কোনো একটি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে’—বলেন তিনি।
এ সময় তরুণদের একাধিক ভাষা শেখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব। তিনি বলেন, তরুণরা তিন থেকে চারটি ভাষা শিখলে বাংলাদেশে বসেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।
এ জন্য ইআরএফকে সদস্যদের ভাষা শেখানোর কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের সঙ্গে মুহূর্তেই যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় যে ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা’ ধারণা অকল্পনীয় মনে হতো, তা এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। তাই বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে তরুণদের পূর্ণাঙ্গভাবে অংশ নিতে একাধিক ভাষা শেখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ইআরএফের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, দি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল হক জাহিদ বলেন, দৈনন্দিন রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে ইংরেজিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি চীনা, জাপানি, ফরাসিসহ অন্যান্য ভাষায় প্রাথমিক জ্ঞান থাকলে বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
হেডম্যান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন বলেন, আনন্দদায়ক পরিবেশে শেখানো হলে ভাষা শিক্ষা সবচেয়ে কার্যকর হয়। বিভিন্ন ভাষা শেখার সুযোগ তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এটি দেশসেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেন, সদস্যদের বিভিন্ন ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করতে দীর্ঘদিন ধরেই ভাষা ক্লাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল ইআরএফের। ভাষাগত দক্ষতা দৈনন্দিন রিপোর্টিংয়ের কাজ সহজ করার পাশাপাশি দূতাবাসের কর্মকর্তা ও বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগেও সহায়ক হবে।
একাধিক বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরিতে প্রয়োজনে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলোর সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়েও ইআরএফ কাজ করছে বলে জানান তিনি।