অনলাইন সংস্করণ
১৪:২০, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
গত সাত মাসে দেশে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিতামূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মাহ্দী আমিন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, 'বর্তমান সরকার স্মরণকালের সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে কোনো বিরোধী দলের মত বা পথ হরণ করা হয়নি।'
তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। বিএনপি সরকার গত সাত মাস রাষ্ট্র পরিচালনায় স্মরণকালের সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। এ সময়ে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো বিরোধী দলের মত বা পথ হরণ করা হয়নি। বহু প্রাণের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। নারী ও তরুণদের সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ গণতান্ত্রিক পথচলায় দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।'
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, ডা. মনীষা চক্রবর্তী, ডা. তাসনীম জারাসহ শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি একটি জবাবদিহিতামূলক সরকার ব্যবস্থা। দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এমন অনেক অধ্যাদেশ বাতিল হওয়া অপ্রত্যাশিত। গুমসংক্রান্ত আইন, মানবাধিকার আইন সংস্কার এবং র্যাব বিলুপ্তির মতো বিষয়গুলো জবাবদিহিতামূলক সরকারের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দেশে একটি কার্যকর ও জবাবদিহিতামূলক জাতীয় সংসদ প্রয়োজন।'
তিনি আরও বলেন, কন্যা ও নারী শিশুর ওপর সহিংসতা, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া ছাড়া কয়েকটি আইন পাসের ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করছে। এসব ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত পরিবর্তন না হওয়ায় হতাশা তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা কতটা সম্ভব, সে প্রশ্নও থেকে যায়।
জবাবে মাহ্দী আমিন বলেন, রাষ্ট্রীয় মদদে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আলোচনা হয়েছে। তবে একবারে শতভাগ পরিবর্তন সম্ভব নয়।
আলোচনা সভায় বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, সংসদ সদস্যদের বড় একটি অংশ ব্যবসায়ী। অর্থ ব্যয় ছাড়া সংসদ সদস্য হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, গণতন্ত্র এখন মানুষের জন্য নয়, ব্যবসায়ীদের জন্য এবং ব্যবসায়ীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
রাজনীতিবিদ ও অ্যাকটিভিস্ট ডা. তাসনীম জারা বলেন, 'সরকারি দফতরে নাগরিকদের প্রজার মতো সেবা নিতে হয়, যা হওয়ার কথা নয়। যেসব আইন পাস হচ্ছে এবং যেসব আইনের খসড়া প্রকাশ করা হচ্ছে, সেখানে জনগণের অংশগ্রহণ নেই। গণতন্ত্রের নামে শুধু মোড়ক পরিবর্তন হয়েছে। ভোটের সময় জনগণকে প্রয়োজন হলেও এরপর সাধারণ মানুষের খোঁজ থাকে না।'