অনলাইন সংস্করণ
২২:৪৬, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তাদেরকে আটক করা হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার দক্ষিণ মোড়ে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে।
কুমিল্লা কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মফিজ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, অপ্রতিমের নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ভিডিও পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। দুইজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পুলিশের বিশেষ দল অভিযান চালাচ্ছে। আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা ভালো একটি ফলাফল পাবো।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, পুলিশ ও এসআরবি (বিলুপ্ত র্যাব) তাদের আটক করেছে।
এদিকে সিসিটিভি ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে শুরু করে দক্ষিণ মোড়ের সানন্দা এলাকায় প্রবেশপথ পর্যন্ত টুপি এবং সাদা শার্ট পরিহিত তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমকে দেখা গেছে।
তবে আইফোন ছাড়া ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি-না জানতে চাইলে মফিজ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, আমরা অনেক কিছুই বিবেচনায় আনছি। এখনই সব বলতে চাচ্ছি না।
এদিকে শনিবার বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারও ইঙ্গিত করেন, অপ্রতিমের বয়সের বড় কিছু বন্ধু রয়েছে। নিখোঁজের দিন বিকালে তাদের সঙ্গে অপ্রতিম ছিলো কিনা বিষয়টি তদন্তের জোর দাবি জানান তিনি।
শুক্রবার বিকালে কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মরদেহের সঙ্গে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।
আবা/এসআর/২৬