
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১-দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ সব ধর্ম বর্ণের মানুষের। আমরা এখন থেকে কোনো বৈষম্য বরদাস্ত করবো না। মানুষের যোগ্যতা আছে আর দেশ প্রেম আছে এনাফ তার হতে উপযুক্ত কাজ চলে যাবে। আমরা এ দেশে মাইনরিটি মেজরিটি শুনতে চাই না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কুড়িগ্রামে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের দেশের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে আপনাদের ভালোবাসায় আমরা কথা দিচ্ছি সর্বশক্তি নিয়ত করে ওদের মুখ দিয়ে পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে এগুলো বের করে আনবো ইনশাল্লাহ। পেট পর্যন্ত যেতে হবে না। ওরা জায়গায় জায়গায় পেট বানিয়ে রেখেছে। ওই পেটগুলো চিহ্নিত করে ফেরত আনা হবে।
জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত বসন্তের কোকিলের মতো বিপদের সময় দেশ ছেড়ে চলে যায়নি। সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে ছিল। দেশের মাটি কামড়ে পড়ে থাকবো, কাউকে ছেড়ে যাব না।
তিনি আরও বলেন, দেশ থেকে চলে যায় কেন? যায় নিজেদের তৈরি করা ফ্যাসিবাদের যন্ত্রণা যাতে ভোগ করতে না হয়। মনে করে এ দেশ নিরাপদ নয়। মনে করে এ দেশ উন্নত নয়। তো উন্নত হতে বাধা দিয়েছিলো কে তোদের? তোরা তো পালাক্রমে দেশ শাসন করলি। তো আমার দেশটাকে দেশ হিসেবে গড়লি না কেন? এ দেশের মানুষ তোমাদেরকে দেখেছে ভাই। অনেক দেখেছে এবার একটু বিশ্রামে যাও। এবার একটু আমাদের সুযোগ দাও। আমরা কথা দিচ্ছি আমরা বসন্তের কোকিল নয়। আমরা ইহজগতের বন্ধু। আর পরজগতেও আল্লাহর কাছে বলি যে আল্লাহ সেইখানেও বন্ধু বানায়া রাখি।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকেই উন্নয়নের বিসমিল্লাহ (শুরু) হবে। ক্ষমতায় গেলে তিস্তাকে জীবন দিব, তিস্তা মরুভূমি থাকবে না। অর্থনীতির কেন্দ্র বিন্দু হবে। হাইড্রোপাওয়ার হবে, গোটা উত্তরবঙ্গে পানি সরবরাহ হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী যারা আছেন। তাদের অনেককে যে বেতন দেয়া হয় চলার জন্য তা যথেষ্ট না। অর্থাৎ রাষ্ট্রই বাধ্য করছে তাদের দুনীতি করার জন্য। যে রাষ্ট্র তার সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রতি সম্মান দেখাতে পারে না। সেই রাষ্ট্র সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী অপরাধ করলে বিচারেরও অধিকার রাখে না।
নারীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, মায়েদের আমরা শ্রদ্ধার আসনে বসাতে চাই। তারা শিক্ষা নেবে, দেশ গড়ায় অংশ নিবে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করবে। তারা কর্মক্ষেত্রে থাকবে নিরাপদ ও কাজ করবে মর্যাদার সঙ্গে।