অনলাইন সংস্করণ
২০:৫৩, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি বলেছেন, উৎসবমুখর দুর্গাপূজা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত শক্তির প্রতিফলন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মহাপরিচালক বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ব বণ্টন, তথ্য আদান-প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সক্ষমতা কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপস’ সমন্বিত দায়িত্ব পালন ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং দায়িত্ববোধের ইতিবাচক পরিবর্তন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। ক্ষমতাকেন্দ্রিক মানসিকতার পরিবর্তে জনসেবা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততাকে প্রাধান্য দিয়ে সম্মিলিতভাবে দেশের জন্য কাজ করার সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় করতে হবে।
পরিদর্শনকালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী আনসার-ভিডিপি সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহাপরিচালক। তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় কুড়িগ্রামের টিডিপি সদস্য লিমন শেখ (২২), গাইবান্ধার ভিডিপি সদস্যা পারভীন (৪৬) এবং টাঙ্গাইলের ফিরোজ খানের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
মহাপরিচালক বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজন ও জননিরাপত্তা কার্যক্রমে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় দায়িত্ব পালন করেন। তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামো এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততা বাহিনীকে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছে।
তিনি বলেন, বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোর চারটি স্তরের কার্যক্রম ও দায়িত্বের ধরন ভিন্ন হলেও জাতীয় নিরাপত্তা, জনসেবা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সব স্তরের সদস্যদের সম্মিলিত সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত আনসার সদস্য এবং তৃণমূলের স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে সদস্যদের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্মদক্ষতা বাড়বে এবং জাতীয় নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে তাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ আরও ফলপ্রসূ হবে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, দেশব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের উৎসবমুখর পরিবেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, যেসব স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়েছে, সেখানে দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার-ভিডিপি সদস্যরা তাৎক্ষণিক তৎপরতার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়েই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূমিকা রেখেছেন। এ ধরনের দায়িত্বশীলতা বাহিনীর পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
বিসর্জনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়ে মহাপরিচালক বলেন, প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে জনসমাগম ও চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পূজারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে মহাপরিচালককে ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকেও পূজা উদযাপন কমিটিকে প্রীতি উপহার দেওয়া হয় এবং ফুল দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানানো হয়। পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ সারাদেশের পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী আনসার-ভিডিপি সদস্যদের দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদারত্ব, প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বয়, জনসম্পৃক্ততা ও মানবিক সেবার সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। ধর্মীয় উৎসবের নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে বাহিনী এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।