ঢাকা শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

গিজার বিস্ফোরণ কেন ঘটে, শীতকালে গিজার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানুন

গিজার বিস্ফোরণ কেন ঘটে, শীতকালে গিজার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানুন

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসাবাড়িতে গিজার বা পানি গরম করার যন্ত্রের ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে যায়। আরামদায়ক গোসলের জন্য গিজার অপরিহার্য হলেও অসাবধানতার কারণে এটি প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিজার বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। কেন ঘটে এই দুর্ঘটনা এবং কীভাবে নিরাপদ থাকা সম্ভব, তা নিয়ে আমাদের আজকের বিশেষ প্রতিবেদন।

গিজার বিস্ফোরণের প্রধান কারণসমূহ-

থার্মোস্ট্যাট অকেজো হওয়া : গিজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো থার্মোস্ট্যাট, যা পানির তাপমাত্রা নির্দিষ্ট মাত্রায় পৌঁছালে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এটি নষ্ট হয়ে গেলে পানি ফুটন্ত অবস্থায় পৌঁছানোর পরও হিটার বন্ধ হয় না, ফলে ভেতরে প্রচণ্ড বাষ্পীয় চাপের সৃষ্টি হয় যা শেষ পর্যন্ত বিস্ফোরণ ঘটায়।

প্রেসার রিলিফ ভালভ নষ্ট হওয়া : প্রতিটি গিজারে অতিরিক্ত চাপ বের করে দেওয়ার জন্য একটি সেফটি বা রিলিফ ভালভ থাকে। দীর্ঘকাল ব্যবহারে আয়রন জমে এই ভালভ বন্ধ হয়ে গেলে ভেতরের বাতাস বের হতে পারে না, যা ট্যাঙ্কি ফাটিয়ে দিতে পারে।

ট্যাঙ্কির ভেতরে অতিরিক্ত আয়রন : পানির আয়রন গিজারের ভেতরে স্তরীভূত হয়ে হিটিং এলিমেন্ট এবং সেন্সরগুলোকে ঢেকে ফেলে। এতে সেন্সর সঠিক তাপমাত্রা বুঝতে পারে না এবং যন্ত্রটি অনিয়ন্ত্রিতভাবে গরম হতে থাকে।

নিম্নমানের তার ও ইলেকট্রনিক্স: গিজার প্রচুর বিদ্যুৎ টানে। যদি সংযোগের তার নিম্নমানের হয় তবে তা গলে গিয়ে শর্ট সার্কিট হতে পারে এবং আগুনের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

দুর্ঘটনা এড়াতে করণীয় ও সতর্কতা-

১. অটো-কাট অফ পরীক্ষা : আপনার গিজারটি পানি গরম হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করুন। যদি লাইট নেভে না যায়, তবে দ্রুত মেকানিক ডাকুন।

২. দীর্ঘক্ষণ চালু না রাখা : কাজ শেষ হওয়ার পরপরই গিজার বন্ধ করে দিন। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গিজার চালিয়ে রাখেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যবহারের অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে চালু করে প্রয়োজনীয় গরম হওয়া মাত্রই সুইচ বন্ধ করে দিন।

৩. মানসম্মত ব্র্যান্ড ও ইনস্টলেশন : গিজার কেনার সময় ভালো ব্র্যান্ড বেছে নিন এবং দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে এটি স্থাপন করান। বিশেষ করে প্লাস্টিক বডির চেয়ে মেটাল বডির গিজারের সুরক্ষা ব্যবস্থা সাধারণত ভালো হয়।

৪. নিয়মিত সার্ভিসিং : বছরে অন্তত একবার বিশেষজ্ঞ দিয়ে গিজারের সেন্সর ও ভালভ পরীক্ষা করান। পানির আয়রন পরিষ্কার করালে যন্ত্রটি দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ থাকে।

৫. পাওয়ার সকেট চেক : গিজারের জন্য আলাদা এবং উন্নত মানের পাওয়ার সকেট ব্যবহার করুন যেন অতিরিক্ত লোডে তার গলে না যায়। শীতের এই সময়ে সামান্য সতর্কতা আপনার এবং আপনার পরিবারের জীবন রক্ষা করতে পারে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত