প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৮ নভেম্বর, ২০২২
আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্ব কর্তৃক মুসলিম শক্তির উত্থান ঠেকিয়ে রাখার নিরন্তর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিস্ময়কর সামরিক শক্তি হিসেবে উত্থান ঘটেছে তুরস্ক ও ইরানের। তুরস্ক ও ইরানের অত্যাধুনিক সমর শক্তির আবিষ্কার, ব্যবহার, রপ্তানি রীতিমতো বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে তুরস্কের তৈরি বায়ারাকতার ড্রোনের দাপটে মারাত্মক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল রাশিয়া। তবে এবার যেন পাশার দান বদলে গেছে, রাশিয়া এখন ইরানের তৈরি প্রচুর পরিমাণে ‘কামিকাজে ড্রোন’ ব্যবহার করে ইউক্রেনজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের তৈরি রাশিয়ার আত্মঘাতী এ ড্রোনটির ইরানি নাম ‘শহীদ ১৩৬’। তবে রাশিয়ানরা এটিকে ব্যবহার করছে গেরান-২ হিসেবে। দামে সস্তা এ ড্রোনগুলো নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
বলা বাহুল্য, ইউক্রেন যুদ্ধ বর্তমানে রাশিয়া বনাম ন্যাটো যুদ্ধে রূপ পরিগ্রহ করেছে। আর দু’পক্ষেরই দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে তুরস্ক আর ইরানের তৈরি সমরাস্ত্রের প্রতি। যে তুরস্ক আর ইরান এক সময় যথাক্রমে আমেরিকা ও রাশিয়ার অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল, সময়ের ব্যবধানে তারা আজ তুরস্ক আর ইরানের দিকে মুখিয়ে আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মুসলিম বিশ্বে যত যুদ্ধ-বিগ্রহ ও দ্বন্দ্ব-বিসম্বাদ হয়েছে, তাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল পরাশক্তিগুলো। তাদের ইচ্ছায় যুদ্ধ শুরু হয়েছে, আবার তাদের ইচ্ছায় শেষ হয়েছে। মুসলিম বিশ্ব ছিল অসহায় দর্শক মাত্র। সময়ের ব্যবধানে আজ পরিস্থিতি বদলে গেছে। মুসলিম বিশ্বের সমস্যা সমাধানে কিংবা বৈধ সরকারকে রক্ষায় মুসলিম দেশ সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট এরদোগান কর্তৃক প্রতিবেশী সিরিয়ায় আমেরিকাণ্ডরাশিয়ার নাকের ডগায় তাদের সমর্থিত যথাক্রমে কুর্দি পিকেকে গোষ্ঠী ও আসাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নিজস্ব তৈরি ড্রোনসহ অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র নিয়ে সামরিক অভিযান চালিয়ে সিরিয়ার সীমান্তবর্তী বিরাট এলাকা দখলে নিয়ে তার দেশে আশ্রিত প্রায় ৪০ লাখ শরণার্থীকে স্ব-উদ্যোগে পুনর্বাসিত করে বাফার জোন গঠন, লিবিয়ার যুদ্ধবাজ নেতা খলিফা হাফতারকে হটিয়ে দিয়ে জাতিসংঘ সমর্থিত জিএনএ সরকারকে সুরক্ষা, সমগ্র ইউরোপীয় শক্তিকে থোড়াই তোয়াক্কা না করে আর্মেনিয়ার জবরদখল থেকে আজারবাইজানের নাগর্নো-কারাবখ পুনর্দখল করে দেয়ার মতো দুঃসাহসিকতা বিশ্ববাসী অবাক-বিস্ময়ে অবলোকন করেছে। নাগর্নো-কারাবখ পুনরুদ্ধার যুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র পাকিস্তান আজারবাইজান-তুরস্কের পাশে ছুটে যাওয়ায় নতুন মাত্রা পেয়েছিল। ওসমানীয় খেলাফতের পর কোনো মুসলিম রাষ্ট্রের এমন দুঃসাহসিক অভিযান কখনও দেখেনি মুসলমানরা।
তুরস্কের রাজনৈতিক ইতিহাসে, প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের পরে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান সবচেয়ে ক্যারিসম্যাটিক এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ক্ষমতায় আতাতুর্কের ১৮ বছরের রেকর্ড (১৯২০-১৯৩৮) ভেঙেছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে আতাতুর্কের ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতি চর্চার বিপরীতে, এরদোগান নব্য-অটোমান ও ইসলামি মূল্যবোধের দ্বারা চালিত সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চান। বর্তমান তুর্কি বৈদেশিক নীতিও এরদোগানের আদর্শবাদে প্রভাবিত। ২০১১ সালে আমেরিকার নেতৃত্বে বহুজাতিক বাহিনীর অভিযানের কথা বলা হলেও ফ্রান্সই মূলত গাদ্দাফির পতনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়ায় ফ্রান্সের প্রভাব ধরে রাখার ক্ষেত্রে তুরস্ক বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফ্রান্স অস্ত্র, টাকাণ্ডপয়সা দিয়ে, রাশিয়া অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকারী মিলিশিয়া নেতা খালিফা হাফতারকে সাহায্য করলেও তুর্কি সামরিক কৌশলের কাছে ধরাশায়ী হয় খলিফা হাফতার।
ফ্রান্স-গ্রিসের উস্কানি সত্ত্বেও ভূমধ্যসাগর ও এজিয়ান সাগরে এরই মধ্যে গ্যাসের বিশাল মজুতের কথা জানানো হয়েছে, যা তুরস্কের অর্থনৈতিক চিত্র দ্রুত পাল্টে দেবে নিঃসন্দেহে। আট লাখ সেনা সদস্যের দেশ তুরস্ক এরই মধ্যে সিরিয়া, সোমালিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন উপকূল ও ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় ঘাঁটি স্থাপনের মাধ্যমে সামরিক উপস্থিতি তৈরি করে নিয়েছে। অধিকৃত উত্তর সাইপ্রাসে রয়েছে তুরস্কের বিশাল সামরিক ঘাঁটি। এ ছাড়া কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে এনে দিয়েছে বিরাট সুফল। ২০২৩ সালের পর বসফরাস প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর তুরস্কের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও করারোপের পর তুরস্কের অর্থনৈতিক চিত্র দ্রুত পাল্টে যাবে নিঃসন্দেহে।
প্রায় সাড়ে ৪০০ বছর সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ তথা বলকান রাজ্য তুরস্কের ওসমানীয় খেলাফত তথা অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। অটোমানদের অধীনে থাকা অবস্থায় তুর্কি জনগোষ্ঠীর বিশাল সংখ্যক লোক বলকান অঞ্চলে গিয়ে স্থায়ী বসবাস শুরু করে। বলকানজুড়ে গড়ে ওঠে বিশাল তুর্কি জনগোষ্ঠী। দীর্ঘ কমিউনিস্ট জাঁতাকলে পিষ্ট এসব তুর্কি জনগোষ্ঠীর প্রতি তুরস্ক বরাবরই সহানুভূতিশীল। এরদোগান সরকার ও তুরস্কের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বলকানের মুসলমানদের কল্যাণে বিভিন্নভাবে কাজ করে চলছে। পাশাপাশি সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা লাভকারী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মধ্য এশিয়ার বৃহত্তর তুর্কি জাতিভুক্ত উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান ও তুর্কমেনিস্তানে নানা রকম সংগঠনের এক বিশাল নেটওয়ার্কও গড়ে তুলেছে তুরস্ক। তুর্কিরা মধ্য এশিয়াবাসীকে তাদের দীর্ঘ দিনের হারানো ভাই হিসেবে বিশ্বাস করে। এভাবে বলকান অঞ্চলের মুসলমানদের এরই মধ্যে ভরসা হয়ে উঠেছেন এরদোগোন।
ট্যাঙ্ক, মিসাইল, রকেট লঞ্চার, ড্রোন- সব কিছুই তৈরি হচ্ছে তুরস্কের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। টর্পেডো উৎপাদনের ঘোষণাও দিয়েছে। হেলিকপ্টার ড্রোন, মনুষ্যবিহীন নৌযানেরও সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। বর্তমানে তারা মনোযোগ দিয়েছে মনুষ্যবিহীন সাজোয়া যান, আন্ডারগ্রাউন্ড অ্যান্ড টানেল ওয়ারফেয়ার উইপন্স এবং ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী অস্ত্র উৎপাদনে। নিজেদের সামরিক বাহিনীর জন্য তুরস্কের উৎপাদিত পণ্যের বাজার ক্রমশ বিদেশেও সম্প্রসারিত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় তুরস্কের সমরাস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা পাকিস্তান। এরই মধ্যে পাকিস্তান ও কাতারের নৌবাহিনীর জন্য যুদ্ধজাহাজ বানিয়েছে তুরস্ক। বিশ্বের ১৪তম বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। তুরস্কের ভূখণ্ডে স্থাপিত সামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠানে আমেরিকাণ্ডতুরস্ক যৌথ উদ্যোগে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান তৈরি হচ্ছে। এখানে যে অভিজ্ঞতা তুর্কি টেকনিশিয়ানরা পাচ্ছে, সেটা তাদের নিজস্ব যুদ্ধবিমান তৈরিতে সাহস যুগিয়েছে। এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান তৈরিতেও মার্কিন টেকনিশিয়ানদের যৌথ অংশগ্রহণ তাদের প্রযুক্তির গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চয়তা প্রদান করে।
১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই আমেরিকার অবরোধের শিকার ইরান। তার ওপর পারমাণবিক শক্তি সঞ্চারের দোহাই দিয়ে ইরানকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কোণঠাসা করে রাখে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব। এ সত্ত্বেও এক মুহূর্তের জন্য থামেনি সামরিক সক্ষমতা অর্জনে ইরানের নিরন্তর প্রচেষ্টা। ইরানের সামরিক কৌশল বরাবরই বিস্ময়ে ভরা। সামরিক বিবেচনায় ইরান ব্যতিক্রমী দেশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সামরিক প্রতিপক্ষ হলেও ইরান সরাসরি এই দুই শক্তির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধে অংশ নেয়নি কখনোই। অথচ এই দুই প্রতিপক্ষকে সামনে রেখেই ইরান গত ৪০ বছর সামরিক সামর্থ্য বাড়িয়েছে নানান অনানুষ্ঠানিক পথে।
প্রথাগত সমরবিদদের জন্য ইরান বরাবরই দুর্বোধ্য। আবার অপ্রথাগত যুদ্ধবিদ্যার জন্য ইরান বিস্ময়কর। অন্য সব দেশের মতোই ইরানের প্রথাগত সেনাবাহিনী রয়েছে, যাকে সেখানে ‘আরথেশ’ বলা হয়। আবার ‘আইআরজিসি’ নামে রেভল্যুশনারি গার্ডের মতো অপ্রথাগত বাহিনীও আছে। আইআরজিসির গঠনও অদ্ভুত ধাঁচের। এর কয়েক ধরনের শাখা আছে। এইরূপ এক শাখা হলো ‘কুদস ফোর্স’, যার প্রধান ছিলেন সোলাইমানি। ইরানের সামরিক শক্তির বড় অংশ এ মুহূর্তে কাজ করছে তার সীমান্তের বাইরে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে। সুতরাং শুধু ইরানে বোমা ফেলে ওই শক্তির বড় ধরনের ক্ষতি করা কঠিন।
ইরান দেশভিত্তিক প্রতিরক্ষা ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে। আক্রমণ বলতেও তারা প্রতিপক্ষ দেশে বোমা ফেলাকে বোঝায় না। বরং তৃতীয় স্থানে তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে প্রতিপক্ষের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করাকে বোঝাচ্ছে। সিরিয়া ও ইরাকে তাদের শত শত সৈনিকের ‘শহীদ’ হওয়াকে তারা দেখে আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ হিসেবে। এ রকম অভিনব কৌশল ভূ-রাজনীতিতে আমেরিকা ও ইসরাইলকে বেশ বিপদে ফেলেছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার ইসলামিক জিহাদ, ইরাকে কাত্তিব হিজবুল্লাহ এবং সিরিয়ায় কুদস ফোর্সকে দিয়ে ইসরায়েলকেও অনেকটা ঘেরাও করে ফেলছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র এসব থামাতে পারছে না।
প্রথাগত বিমানবাহিনীর আকার না বাড়িয়ে ইরান রীতিমতো মিসাইল বিপ্লব ঘটিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় মিসাইল-ভান্ডার এখন ইরানের হাতে। জলপথেও দেশটি নৌযানের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে মাইন বসিয়ে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর প্রতিপক্ষদের জন্য দুরূহ করে তুলেছে। ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর সঙ্গে, ২০০৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত হামাসের সঙ্গে তিনটি যুদ্ধে ব্যর্থতা ইসরাইলের অপরাজেয় থাকার রূপকথাতুল্য খ্যাতি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। হিযবুল্লাহ, হামাসকে আর্থিক এবং সামরিক পৃষ্ঠপোষক দেয় ইরান। আগের যুদ্ধগুলোতে কোনো আরব দেশই ইসরাইলের ভেতরে যুদ্ধ স্থানান্তরিত করতে সক্ষম হয়নি। সে সময় ইসরায়েলের ইচ্ছায় যুদ্ধ সমাপ্ত হতো।
২০০৬ সালে লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রথমবারের মতো ইসরাইলের ভেতরে যুদ্ধ স্থানান্তরিত করতে সক্ষম হয়। ইসরাইলি দখলদার নাগরিকরা সেবারই প্রথম যুদ্ধের স্বাদ আস্বাদন করে। সে সময় হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বাঁচার জন্য সমগ্র উত্তর ইসরাইলের অধিবাসীদের এক বিরাট অংশ বাংকার, তেল আবিব ও নেগেভ মরু অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিল। মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা আয়রন ড্রোন থাকা সত্ত্বেও গাজা থেকে হামাসের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে অক্ষত থাকতে পারেনি ইসরায়েলি জনগণ। হিজবুল্লাহকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অরাষ্ট্রীয় আর্মি বিবেচনা করা হয়। হিজবুল্লাহর কাছে ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ রকেট মজুদ রয়েছে, যা বিশ্বের অনেক দেশের আর্মির কাছেও নেই। এসব রকেটের মূল লক্ষ্য ইসরাইল। তাদের রয়েছে হাজার হাজার এন্টি এয়ারক্রাফট, এন্টি শিপ এবং এন্টি ট্যাঙ্ক মিসাইল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত যুদ্ধে আরব দেশের কোনো আর্মি হিজবুল্লাহর মতো শক্তিশালী নয়।
ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে প্রায় সবধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র সক্ষম। ইরানের আক্রমণাত্মক একটি জঙ্গি বিমানের নাম অযারাখশ। এটি শব্দের চেয়েও দ্রুত গতিতে চলে। ইরান মিগ-টুয়েন্টি নাইন জাতীয় বিমানকে আরও উন্নত বিমানে রূপান্তরিত করছে এবং ইরানি বিশেষজ্ঞরা নানা ধরনের বোমারু বিমান মেরামত করছেন। ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ইরান ফতেহ-১১০ এবং কিয়ামণ্ড১ নামের যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল তাতে ঘনীভূত জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এসব ক্ষেপণাস্ত্র হয়েছে আরও নিখুঁত, দ্রুত গতিসম্পন্ন এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন। নানা ধরনের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছেন ইরানি বিশেষজ্ঞরা।
ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য অত্যন্ত নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তি আয়ত্ব করেছে ইরান। বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের কাছে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি রয়েছে। মহাশূন্য ও রাডার প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় ইরানের এ শিল্প অগ্রগতির শীর্ষ পর্যায়ে উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, ইরান রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম স্টিলথ জঙ্গি বিমানও নির্মাণ করছে। নৌ-প্রতিরক্ষা শিল্পে ইরানের অসাধারণ অগ্রগতির বড় প্রমাণ হলো, গাদির সাবমেরিন ও ‘ব্লিড রানার- ৫১’ নামক দ্রুত গতিসম্পন্ন বোট নির্মাণ।
সবকিছু মিলিয়ে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যেভাবে শত্রু-মিত্রের অদলবদল ঘটছে এবং যেভাবে নতুন নতুন সমীকরণ-মেরুকরণের জন্ম দিচ্ছে তাতে করে সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে তুরস্ক-ইরানসহ মুসলিম বিশ্বের গুরুত্ব যেমন বাড়ছে, বিপরীতে আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্বের অসহায়ত্ব দিন দিন প্রকাশ পাচ্ছে।
লেখক : শিক্ষক, কলামিস্ট ও আন্তর্জাতিক
রাজনীতি বিশ্লেষক