
বন্দর নগরী চট্টগ্রামে দিন দিন জনবসতি বাড়ছে। নগরায়নের ফলে নগরীর সড়কগুলো আগের থেকে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। চার-পাঁচ বছর আগেও যে সড়কগুলোতে যানযট দেখা যেত না, বর্তমানে এসব সড়কে হরহামেশাই যানজট লেগেই থাকে। নগরীর বিভিন্ন অবকাঠামোগত পরিবর্তন, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নির্মাণসহ বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের অভিমত, এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো জনবহুল এলাকাতে না দিয়ে বিকল্প কোন ব্যবস্থার কথা চিন্তা করা উচিত ছিল। সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর পাঁচলাইশ থানার প্রবর্তক মোড় থেকে দুই নম্বর গেট পর্যন্ত সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র যানজট লেগে আছে।
বিশেষ করে প্রবর্তক মোড় এলাকার বিভিন্ন শপিং মার্কেটে পর্যাপ্ত পার্কিং না থাকায় সড়কেই গাড়ি দাঁড় করানো হচ্ছে। এতে পুরো সড়কে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম যানজট, যা রমজান মাসে আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। এলাকায় অবস্থিত কনকর্ড মঈন স্কয়ার, মেরিডিয়ান কোহিনুর প্লাজা, আফমি প্লাজা ও মিনি সুপার মার্কেট এ পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা না থাকায় অধিকাংশ গাড়ি সড়কের ওপরই রাখা হয়। ফলে প্রবর্তক মোড় থেকে দুই নম্বর গেট পর্যন্ত এবং বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ওয়াসার মোড় পর্যন্ত দিন ও রাতের বেশির ভাগ সময়ই যানজট লেগে থাকে। এতে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব মার্কেটে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা না থাকায় অধিকাংশ গাড়ি সড়কের ওপর বা আশপাশের ফাঁকা জায়গায় এলোমেলোভাবে দাঁড় করানো হয়। ফলে সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে গিয়ে কৃত্রিম যানজট তৈরি হচ্ছে। রমজানে কেনাকাটা ও ইফতারসামগ্রী সংগ্রহ করতে বিকেল থেকে মানুষের ভিড় বেড়ে যায়। এ সময় ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। অনেক চালক নির্ধারিত স্থানের বাইরে বা উল্টো পাশে গাড়ি পার্ক করেন। এক জায়গা থেকে সরিয়ে দিলে গাড়িগুলো অন্য পাশে গিয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত একই এলাকায় ঘোরাফেরা করে।
ট্রাফিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রায় ৫০টির মতো গাড়ি যদি একই এলাকায় বারবার ঘুরতে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সড়কে স্থায়ী চাপ তৈরি হয়। এই সড়ক ব্যবহারকারী যাত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, প্রবর্তক মোড় থেকে দুই নম্বর গেট পর্যন্ত যেতে স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণ বা তিনগুণ সময় লাগছে। বিশেষ করে অফিস ছুটির সময় ও ইফতারের আগে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
সালাউদ্দিন নামে একজন পথচারী বলেন, সড়কের অর্ধেকটাই যেন মার্কেটে আসা গাড়িগুলো পার্কিংয়ের জন্য দখল হয়ে যায়। গাড়ি সরালেও কিছুক্ষণ পর আবার এসে দাঁড়ায়। এতে আমরা যারা নিয়মিত চলাচল করি, তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এদিকে প্রবর্তক মোড় থেকে দুই নম্বর গেট পর্যন্ত সড়কে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক উত্তর বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত ডিউটির পাশাপাশি এ এলাকায় অতিরিক্ত ১০ জন এসএফ ফোর্স সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করছেন দুইজন সার্জেন্ট এরমধ্যে একজন স্পেশাল সার্জেন্ট এবং একটি মোবাইল টিম। রমজান উপলক্ষে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অতিরিক্ত সদস্যরা কাজ করছেন। ১০ রমজানের পর বিশেষ ডিউটির সময়সীমা রাত ১১টা পর্যন্ত বাড়ানো হবে। ট্রাফিক উত্তর বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, নতুন মার্কেট কনকর্ড মঈন স্কয়ারে কোনো পাকিং নেই। এই মার্কেটের কারণে এই রোডে নতুনভাবে যানজট বেশি সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও আফমি প্লাজা ও মিনি সুপার মার্কেট এ পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নেই। সমস্যার মূল কারণ হলো পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থার অভাব। নতুন মার্কেট ও বাণিজ্যিক স্থাপনার অনুমোদনের সময় পর্যাপ্ত পার্কিং নিশ্চিত না হওয়ায় এখন এর প্রভাব সড়কে পড়ছে। নির্দিষ্ট সময়গুলোতে হাসপাতালের রোগী পরিবহন ও মার্কেটের ক্রেতাদের গাড়ি সব মিলিয়ে সড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
সিএমপি ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সোমেন মজুমদার জানান, প্রবর্তক মোড় থেকে দুই নম্বর গেট পর্যন্ত সড়কটি যানজটপূর্ণ, রমজানে চাপ আরও বেড়েছে। রমজানে কনকর্ড মঈন স্কয়ার, আফমি প্লাজা ও মিনি সুপার মার্কেটের সামনে দুইজন করে ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কনকর্ড মঈন স্কয়ার, আফমি প্লাজা ও মিনি সুপার মার্কেট-এ পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা না থাকায় অধিকাংশ গাড়ি সড়কের ওপরই রাখা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন, সমন্বিত অভিযান চালানো হচ্ছে। মূল সমস্যা পার্কিং সংকট ও যত্রতত্র পার্কিং। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।