
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় বঙ্গোপসাগরের পাশাপাশি নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। দারুণ উচ্ছ্বসিত হয়ে আহরণের পর জেলেরা এসব মাছ নিয়ে বিক্রির জন্য কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি জেলে পরিবার গুলোর মুখে হাসি ফুটেছে।
গতকাল সরেজমিনে জেলে ঘাটে দেখা যায়, সাগরে মাছ শিকার শেষে উপকূলে ফিরছেন জেলেরা। আর ট্রলার থেকে মৎস্য অবতরণ ঘাটে মাছ নামাতে ব্যস্ত জেলে ও শ্রমিকরা। সাগরে শিকার শেষে ট্রলারভর্তি মাছ নিয়ে জেলেরা টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের বাহারছড়া, সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়া পাড়া, সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডার ডেইল ও বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর ঘাটে ভিড়ছে। ট্রলার থেকে বিক্রির জন্য ঝুড়িতে রাখা হচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের মাছ, যা দেখে মুখে হাসি ওই ট্রলারের মাঝিমাল্লাগন।
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের বাহারছড়া ঘাটের ট্রলারের মালিক আবদুর রহমান বলেন, বঙ্গোপসাগরের পাশাপাশি নাফনদীর জেলেরা সাগরে মাছ শিকারে গিয়েছিল। মাছে ট্রলার ভরে যাওয়ায় তা বিক্রির জন্য ঘাটে ফিরে এসেছি। এ বছর ১১ মেট্রিক টনের বেশি বিভিন্ন প্রকারের মাছ পেয়েছি, কিন্তু সাগরে ছোট মাছের পাশাপাশি বড় ছোট মাছও ধরা পড়ছে। এদিকে গত মঙ্গলবার জেলেদের জালে ধরা পড়া ১২০ মণ মাছ রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী খালের ঘাটে পৌঁছানোর পর শুরু হয় কেনাবেচা। ব্যবসায়ীরা জানান, মোট ওজন প্রায় ১২০ মণ, মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় ৩১ লাখ টাকা পায়। টেকনাফ সদরের কেরুন তলীর বাসিন্দা মোহাম্মদ মিজান ও হারুনের মালিকানাধীন একটি ট্রলারে এসব মাছ ধরা পড়ে। এক জালে এত বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল পেয়ে খুশিতে আত্মহারা ট্রলারের মালিক ও জেলেরা। টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ মিন্ত্রী পাড়ার মৎস্য ব্যবসায়ী মো. গফুর বলেন, এখন মাছের দাম অনেক কম। সাগরে প্রচুর মাছ ধরা পড়ায় সব মাছের দাম নিম্নমুখী।
ফলে মাছের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আমিন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে সামুদ্রিক মাছের দাম যা ছিল, এখন একটু কমেছে। টেকনাফ সদরের মহেষখালীয়া পাড়ার ঘাটের বোট মালিক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর মাছ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর টেকনাফ থেকে কয়েক হাজার মেট্রিক টন সামুদ্রিক মাছ রপ্তানি করা হয়, এ বছর এখন পর্যন্ত তা কয়েক গুণ বেড়েছে। এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়ার বিষয়টি অবশ্যই সুখবর। সরকারি বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা মান্য করায় বর্তমানে জেলেদের জালে ছোট-বড় প্রচুর পরিমাণে এ মাছ ধরা পড়ছে। মাছগুলো চট্টগ্রাম-ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করতে পারলে আরও ভালো দাম পাওয়া যেত।