
রমজান, ঈদ, নববর্ষ কিংবা কোনো উপলক্ষ সামনে রেখে যেখানে দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যায় সেখানে ভিন্ন গল্প খাগড়াছড়িতে। রমজানে খাগড়াছড়ির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম নিজের দোকানে উৎপাদিত দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমিয়ে দেন।
যা বিগত ৮ বছর ধরে ধারাবাহিক করে যাচ্ছেন তিনি। এবারও দুধ, মিষ্টি দই, টক দই, হালুয়া, ফিন্নিতে দাম কমিয়েছেন ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। মানবিকতার এমন উদ্যোগে মুগ্ধ স্থানীয়রা।
সরেজমিনে খাগড়াছড়ি শহরের মুক্তমঞ্চের সামনে শহীদের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, আসরের নামাজের পর থেকে একটু একটু ভিড় বাড়তে থাকে। কেউ আসছেন মিষ্টি দই নিতে, কেউ বা টক দই, হালুয়া, ফিন্নি ও দুধ নিতে। যার যার প্রয়োজন মতো করে নিয়ে যাচ্ছেন দুগ্ধজাত পণ্য। প্রতিদিন সকাল থেকে তৈরি করা এসব পণ্য আসরের আগে আগে প্রস্তুত করে দোকানে সাজাতে সাজাতে বিক্রি শুরু হয়ে যায়। ছোট গলির মতো দোকানে ভালো মতো দাঁড়ানোর সুযোগও নেই। একজনের পেছনে একজন দাঁড়িয়ে সংগ্রহ করছে পণ্য।
কথা হয় মেহেদী নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতিদিন বাড়ির জন্য দুধ নিয়ে যান। রমজান আসার পর লিটারে দাম কমিয়ে রাখছেন। ভিন্ন গল্প হলেও মানবিক মানুষ শহীদ ভাই এমনটি করেন প্রতি বছর রমজানে। অন্য ক্রেতা বলেন, চাকরির সুবাধে খাগড়াছড়ি আসছি। রমজানের আগে প্রায় উনার দোকানে দই ও চা খাওয়া হতো। ব্যবহারে অমায়িক তিনি। রমজানে দেখছি তিনি পণ্যের দাম কমিয়ে রাখছেন। সত্যি প্রশংসার বিষয় এটি।
ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম বলেন, তিনি রাসুল (সা) এর দেখানো পথে জীবন গড়ার চেষ্টা করেন। আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জন ও রোযাদারদের মেহমানদারীর অংশ হিসেবে তিনি কিছু মুনাফা কম করে পণ্যের দাম কমিয়েছেন।
রোযাদার খুশি হলে তিনি খুশি উল্লেখ করে যতদিন ব্যবসা করবেন এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখার কথা বলেন।